শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন ১৬ ডিসেম্বর: বিমানমন্ত্রী

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
বিমানমন্ত্রী বলেন, আগের সময়ে থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও উদ্যোগ সেভাবে নেওয়া হয়নি। ইন্টারনেট, বিভিন্ন মেশিন ও প্রয়োজনীয় সিস্টেমের ইন্টিগ্রেশনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ে টার্মিনালটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা থার্ড টার্মিনাল চালু করতে চাই। যেভাবেই হোক ১৬ ডিসেম্বর এটি আংশিকভাবে খুলে দিতে হবে। আজ থেকেই উদ্বোধনের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হচ্ছে। জাপানের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের কাজও শুরু হয়েছে। প্রকল্পের বাকি অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বলে জানান তিনি।
থার্ড টার্মিনালের সক্ষমতা প্রসঙ্গে বিমানমন্ত্রী বলেন, পুরোপুরি চালু হলে বর্তমানের তুলনায় প্রায় চার গুণ সক্ষমতা নিয়ে এটি কাজ করবে। প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি এয়ারক্রাফট হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা থাকবে। পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের বিষয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ৫০ শতাংশ করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একই সঙ্গে যাত্রীদের লাগেজ দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জরিমানা করতে পারবে।
মন্ত্রী মিল্লাত বলেন, থার্ড টার্মিনালের বিভিন্ন সিস্টেমের মেশিন টেস্ট ও ট্রায়াল প্রতিদিন চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কার্যক্রম বর্তমান গতিতে চললে ১৬ ডিসেম্বর আংশিক উদ্বোধন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আংশিক চালুর পর টার্মিনালের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ টার্মিনালের দায়িত্ব বুঝে নেবে।
বিমানমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে থার্ড টার্মিনালকে ঘিরে দেশে আরও বিনিয়োগ আসবে বলে সরকার আশা করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিমানবন্দরে নেমেই যেন বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পান, সে লক্ষ্যেই টার্মিনালের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের নেই। নাম পরিবর্তনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে। জনগণের টাকা অতিরিক্ত খরচ করে শুধু নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করছে না সরকার। এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালু করা।


