logo

মালয়েশিয়া ফেরত চাকরিচ্যুত কর্মীদের স্মারকলিপি, সময় চাইলেন মন্ত্রী

মালয়েশিয়া ফেরত চাকরিচ্যুত কর্মীদের স্মারকলিপি, সময় চাইলেন মন্ত্রী

রাজধানীর পরিবাগে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন মালয়েশিয়া থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে দেশে ফেরা কর্মীরা। 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) মন্ত্রীর দপ্তরে তারা এই স্মারকলিপি দেন। মন্ত্রীর আশ্বাসে আপাতত কোনো কর্মসূচিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

স্মারকলিপি দেওয়ার পর মালয়েশিয়ার চাকরিচ্যুত কর্মী আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মন্ত্রী আমাদের সব দাবি শুনেছেন এবং বিস্তারিত লিখে নিয়েছেন। ওনারা হাইকমিশনের মাধ্যমে আমাদের যেসব এজেন্সি পাঠিয়েছিল তাদের মালিকদের ডাকবে এবং ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ, ব্ল্যাকলিস্ট—এই বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করবে বলে জানিয়েছেন। তারা আমাদের কাছে তালিকা চেয়েছেন। তালিকা পেলেই ওনারা কাজ শুরু করবেন।'

মন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করতে পেরেছেন কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জি, আমরা মোটামুটি আশ্বস্ত। যেহেতু উনারা নতুন এসেছেন এবং এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন, আমরা একটু সময় দিতে চাচ্ছি। আমরা বলে আসছি যদি আশ্বস্তের ওপরই থাকে তাহলে আমরা বড় কর্মসূচি দেব।’

এর আগে স্মারকলিপি দেওয়ার সময় মালয়েশিয়া ফেরত প্রবাসী নিরঞ্জন বলেন, আমরা ২০২৩ সালে ৫ লাখ, সাড়ে ৫ লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়া গিয়েছি। সেখানে মেডিসীরাম ও কাওয়াগুছি কোম্পানিতে আমাদের কাজ হয়। কিন্তু এ কোম্পানিগুলো আমাদের সঠিক সময় বেতন দিত না। আমাদের প্রত্যেকের ৫-৬ মাসের ওপরে বেতন বকেয়া রয়েছে, পাসপোর্টগুলা জব্দ করে রেখেছে। এ ছাড়া সেখানে আমাদের দিয়ে জোরপূর্বক কাজ করাত এবং মারধর করত।

দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সকল ভুক্তভোগী শ্রমিকের বকেয়া বেতন অবিলম্বে পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। জোরপূর্বক শ্রম ও নির্যাতনের জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। সকল শ্রমিকের জব্দকৃত পাসপোর্ট দ্রুত ফেরত নিশ্চিত করতে হবে। কালো তালিকা বাতিল ও পুনরায় বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য কার্যকর পুনর্বাসন ও পুনঃএকীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে শূন্য খরচে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’