‘ইসলামপন্থিদের ক্রসফায়ার-গুম-খুন করতে বলা হতো’

যারা ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিল বা ইসলামপন্থি ছিল তাদেরকে ক্রসফায়ার থেকে শুরু করে গুম খুন করতে বলা হতো বলে জানিয়েছেন চাকরিচ্যুত নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মেহেদী হাসান।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
আপনাকে কেন চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদী হাসান বলেন, ৫ আগস্টের পর জেনেছি বিভিন্ন মতাদর্শের লোক বিশেষ করে যারা ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিল বা ইসলামপন্থি ছিল তাদেরকে ক্রসফায়ার থেকে শুরু করে গুম-খুন করতে বলা হতো। এ রকম কিছু লোকের লিস্টও আমাকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি এটা করতে রাজি হইনি এবং গুম-খুন করার আদেশগুলো আমি পালন করিনি। যার কারণেই আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে আপনাকে হাতিয়া থেকে বদলি করা হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের সময় এমপি হিসেবে আয়েশা সিদ্দিকা থাকলেও মূলত ওনার স্বামী মোহাম্মদ আলী উনি ছিল হাতিয়ার ডন। তারই মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীবাহিনী পাথরঘাটার রিমন, তোফায়েল আহমেদ শাওন; বিশেষ করে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এবং তার ছেলে সাদেক আব্দুল্লাহ হাতিয়াকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল।
তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালে মোহাম্মদ আলীর মদদপুষ্ট নাজিম মোল্লাকে আমি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করি। তার নামে ধর্ষণ ও খুনের মামলা ছিল। গ্রেপ্তারের পর আমাকে ৫০-৬০ বার ফোন দিয়েছিলেন আয়েশা সিদ্দিকা। কিন্তু আমি ফোন না ধরে আমি তাকে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করি। জেলে যাওয়ার সময় নাজিম মোল্লা আমাকে বলে ‘আপনাকে এই জায়গায় দেখব কিনা আমি জানি না’। এ ঘটনার ২৮ দিন পরে হাতিয়া থেকে আমাকে পাথরঘাটায় বদলি হয়।