গৃহবধূকে হত্যার পর স্বর্ণের চেইন, চুড়ি ও নাকফুল নিয়ে যায় তারা

রাজধানীর তুরাগ এলাকায় এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পৃথক অভিযানে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নূরে আলম বাঘ (৪৭) ও মো. রাসেল মাদব্বর ওরফে রাসেল ইসলাম জনি (২৫)।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অভিযান চালিয়ে নূরে আলমকে তুরাগের ১৫ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১২ নম্বর সেক্টরের একটি অফিস থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও একটি ভাঙা চশমা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। একইদিন সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশন এলাকা থেকে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তুরাগ থানাধীন ১৫ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে স্বামীসহ বসবাস করতেন রেজিনা মমতাজ (৫৯)। গত সোমবার (২ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে তার স্বামী তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য বাসা থেকে বের হন। রাত ৯টা ১৫ মিনিটে ফিরে এসে তিনি দেখেন, ফ্ল্যাটের ভেতরে রেজিনার হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং নাক-মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো ছিল। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় রাত ৮টা ১৮ মিনিটের দিকে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ করে। পরে তারা ভুক্তভোগীর হাত-পা বেঁধে ও নাক-মুখে স্কচটেপ প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ সময় একটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া স্বর্ণের চুড়ি ও একটি নাকফুল নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তুরাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়াও হত্যার পেছনে লুটপাটের উদ্দেশ্য ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।