Advertisement

শিগগিরই দিল্লি যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
শিগগিরই দিল্লি যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

নানা জল্পনা–কল্পনার মধ্যে শিগগির ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও জনকেন্দ্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই এ সফরের মূল লক্ষ্য। আগামী সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনের আগেই সফরটি হতে পারে। এমনকি চলতি আগস্টেই প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement

কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, গত দুই বছরে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে তারেক রহমানের এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরাসরি বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথ খোঁজা সম্ভব হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান নেওয়ার পর তাঁকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ে। পরে সীমান্ত, ভিসা, বাণিজ্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে সম্পর্কের শীতলতা প্রকাশ্যে আসে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবিও জোরালো হয়েছে। অন্যদিকে শেখ হাসিনার ভারতের অবস্থান এবং সেখান থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি ঢাকার জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়েও এ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে একটি বেসরকারি আয়োজনে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ছাড়াও সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাকিব আল হাসান বক্তব্য দেন। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে দেশটির সরকার কোনোভাবে জড়িত ছিল না।

গত সোমবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পরে নয়াদিল্লি গিয়ে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, তিস্তা, বাণিজ্যিক বাধা, মানুষের যোগাযোগ সহজ করা এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেন এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারত ও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও বেড়েছে।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়; তবে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে আউটরিচ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নিজে অংশ নেবেন, নাকি প্রতিনিধি পাঠাবেন—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কূটনীতিকদের মতে, আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরই দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনে বেশি কার্যকর হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে মালয়েশিয়া ও পরে চীন সফর করেছেন।

সূত্র: কালবেলা