পুরাতন পোশাকে ফিরতে চায় শতভাগ পুলিশ

পুরোনো পোশাকেই ফিরতে চান পুলিশ বাহিনীর শতভাগ সদস্য। পোশাক নিয়ে পুলিশের কল্যাণ সভায় এমন মতামত ব্যক্ত করেছেন তারা। পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এশিয়া পোস্টকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুলিশের জন্য নতুন যে পোশাক বরাদ্দ করা হয় তা নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা রয়েছে বাহিনীর ভেতরে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের পোশাক নির্ধারণের জন্য অভ্যন্তরীণ জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জরিপে অংশ নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ২ লাখেরও বেশি সদস্য নিজেদের পোশাক নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সদরদপ্তর থেকে ৬৪ জেলার এসপি ও ইউনিট প্রধানদের কাছে চিঠি দিয়ে সোমবারের (২ মার্চ) মধ্যে মতামত জানাতে বলা হয়।
কয়েকটি জেলার এসপিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে আগের পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ, বর্তমান পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ এবং কত শতাংশ নতুন পোশাক চায়—এমন তিনটি বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর এসপিরা কল্যাণ সভা ডেকে নিজ নিজ ইউনিটের সদস্যদের মতামত জানতে চান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার জেলার পুলিশ সদস্যরা শতভাগ পুরোনো পোশাকে ফেরত যেতে মতামত দিয়েছে।’
নতুন পোশাকে কি আপত্তি ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যশোর জেলায় নতুন পোশাক এখনো আসেনি। তাছাড়া নতুন পোশাকের থেকে পুরাতন পোশাক দেখতে সুন্দর ও আরামদায়ক। সে জন্য পুরাতন পোশাকে শতভাগ মতামত দিয়েছে।’
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু এশিয়া পোস্টকে জানান, কল্যাণ সভার আলোচনা অনুযায়ী তার জেলার আশিভাগ পুলিশ পুরোনো পোশাকে ফিরতে চান। নতুন পোশাকে তারা দায়িত্ব পালন করতে চাচ্ছেন না।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সোমবার বিকেলের মধ্যে বেশিরভাগ জেলা থেকে পুলিশের মতামত পাওয়া গেছে। গড়ে শতভাগ পুলিশ সদস্যই পুরোনো পোশাকে ফেরার বিষয়ে মত দিয়েছেন। সব ইউনিট থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের যৌথ সিদ্ধান্তে পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জরিপের মতামতের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটি গোপনীয় একটি বিষয়। বিভিন্ন জেলা থেকে কনফিডেনশিয়াল শাখায় এসব রিপোর্ট জমা হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।