logo
Advertisement

ধূমপানের ভয়াবহতা উঠে এলো প্রতিবেদনে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ধূমপানের ভয়াবহতা উঠে এলো প্রতিবেদনে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
ধূমপানের দৃশ্য। ছবি: টিভিনাইন বাংলা থেকে নেওয়া

ধূমপান বা তামাক সেবনে নারী-পুরুষের প্রজননক্ষমতা বা সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ধূমপান ও বন্ধ্যত্বের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে শনাক্ত হওয়া প্রমাণগুলো এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তাতে বলা হয়, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ী নারীদের বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ বেশি। আবার আগে ধূমপান করেছেন, কিন্তু পরে ছেড়ে দিয়েছেন—এমন নারীদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি নিয়মিত ধূমপায়ীদের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম থাকে।

আরও বলা হয়, পরোক্ষ ধূমপানও প্রজননক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অর্থাৎ কেউ নিজে ধূমপান না করলেও পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে তার প্রজনন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে ধূমপান ত্যাগ করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ডব্লিউএইচওর ট্যোবাকো ফ্রি ইনিশিয়েটিভের চিকিৎসা কর্মকর্তা কার্স্টিন শট বলেন, ‘যারা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের সবার উদ্দেশে আমাদের বার্তা হলো—ধূমপান ত্যাগ করুন, আপনার প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নতি করুন।’

কোনো প্রতিরক্ষাপদ্ধতি ব্যবহার না করে টানা ১২ মাস বা তার বেশি সময় নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের পরও গর্ভধারণ না হওয়াকে ‘বন্ধ্যত্ব’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে ডব্লিউএইচও। বিশ্বব্যাপী প্রতি ছয়জনে একজন এ সমস্যায় ভুগছেন।

বহু দশক ধরে চলা বিভিন্ন গবেষণার ভিত্তিতে ডব্লিউএইচও জানায়, তামাক সেবন যেমন নারীদের বন্ধ্যত্বের জন্য দায়ী, তেমনই এটি পুরুষদের যৌন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ডব্লিউএইচও জোর দিয়ে বলেছে, বন্ধ্যত্ব শুধু নারীদের কোনো সমস্যা নয়। ৬০ হাজারের বেশি পুরুষের ওপর পরিচালিত ৪৪টি গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ধূমপানের সঙ্গে প্রজনন ক্ষমতার নানা জটিলতার সম্পর্ক রয়েছে, যার মধ্যে যৌন অক্ষমতা অন্যতম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ধূমপায়ী পুরুষদের ক্ষেত্রে উত্থানজনিত সমস্যা বা ইরেকটাইল ডিসফাংশন, দ্রুত বীর্যপাত এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি অনেক বেশি।

ধূমপান বন্ধ্যত্বের আধুনিক চিকিৎসার সফলতাও কমিয়ে দিতে পারে বলেও জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। ২১টি গবেষণার পর্যালোচনা করে সংস্থাটি বলছে, ধূমপানের ফলে আইভিএফের মতো কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবিত শিশু জন্মদান এবং গর্ভধারণের হার কমে যায়।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধূমপান আইভিএফ বা এ জাতীয় চিকিৎসার সফল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারে।

হুক্কা সেবনের ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য কিছু ঝুঁকির কথা চিহ্নিত করেছে ডব্লিউএইচও, যা পুরুষদের প্রজননক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ই-সিগারেট (ভেপ), ধোঁয়াহীন তামাক এবং অন্যান্য নতুন পণ্যের ক্ষতির বিষয়ে এখনও গবেষণা চলমান আছে। অন্যান্য তামাক ও নিকোটিন-যুক্ত পণ্যও প্রজনন-স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

পরামর্শ দিয়ে ডব্লিউএইচও বলেছে, যারা বা যে দম্পতিরা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের সঙ্গে তামাক সেবনের প্রজননজনিত ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করুন । একই সঙ্গে যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যাওয়া তামাকসেবীদের ধূমপান ছাড়ার জন্য নিয়মিত ও তথ্যপ্রমাণভিত্তিক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানায় সংস্থাটি।