এডিস নয়, কিউলেক্স মশার ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ডিএনসিসির: দুদক

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গত ৫ বছর ধরে এডিস মশা নয়, কিউলেক্স মশার ওপর পরীক্ষা করেই মশক নিধন কর্মসূচি চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে দিনভর অভিযান চালিয়ে দুদক বলছে, এডিস মশার ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে এমন কোনো নথিপত্র পায়নি তারা। একই সঙ্গে তারা বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলেও এতে সিটি করপোরেশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলে দুদক অভিযানে দেখতে পেয়েছে।
বছরজুড়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এডিস মশা দমনে ওষুধ ছিটালেও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না, বরং চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সপ্তাহ ব্যবধানে ঢাকা দক্ষিণ সিটির পর বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটিতেও অভিযান চালিয়েছে দুদক, যেখানে দিনভর অভিযানে মশক নিধনে কীটনাশকে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির চিত্র মিলেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকলেও ২০২২ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত প্রত্যেকবার সিটি করপোরেশন এডিস নয়, কিউলেক্স মশার ওপর মেলাথিয়ন কীটনাশক পরীক্ষা করে মাঠ পর্যায়ে মশক নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। এমনকি ২০২৩ সালে বিটিআই নামের কীটনাশক সিঙ্গাপুর থেকে আমদানির কথা বলে আনা হয় চীনা ওষুধ।
এদিন, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের বিল বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে সিটি করপোরেশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলে জানায় দুদকের অভিযানিক দল।
দুদকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু কিউলেক্স সব মশার ওপরেই পরীক্ষা চালানো হয়। তবে কিউলেক্স মশার আধিক্য বেশি থাকে। তিনি দাবি করেন, তাদের মশক নিধনে কীটনাশক শতভাগ সফল।
দুদক বলছে, বেশকিছু প্রতিষ্ঠান বারবার সিটি করপোরেশনে মশার কীটনাশক সরবরাহের কাজ পেয়েছে। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কমিশনের কাছে সুপারিশ করবে বলেও জানান সংস্থাটির কর্মকর্তারা।