Advertisement

শেখ হাসিনার শেষ সময়ের কথোপকথন উঠে এলো কললিস্টে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
শেখ হাসিনার শেষ সময়ের কথোপকথন উঠে এলো কললিস্টে
শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশে কোটা সংস্কার আন্দোলন হতাহতের ঘটনায় ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পরে ১ দফা দাবি দিয়ে ছাত্র আন্দোলনকারীরা অনড় থাকলে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আন্দোলনের সময় বিভিন্নজনের সঙ্গে ফোনে যেসব কথোপকথন হয়েছে, তার বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশত্যাগের আগে শেখ হাসিনার সেসব কথোপকথনের কললিস্টে কয়েকজন মন্ত্রী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়।

বেসরকারি টেলিভিশন স্টার নিউজের কললিস্ট বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, দেশ ছাড়ার আগের সময় থেকে ভারত পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

কললিস্টের তথ্য আরও বলছে, ক্ষমতাচ্যুতির আগের দিন ৪ আগস্ট দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর শেখ হাসিনা কয়েকজন মন্ত্রী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তেমন একটি অডিও কথোপকথনে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন। একই কথোপকথনে সেনাপ্রধান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা সময় নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ আগস্ট রাতের দিকে শেখ হাসিনা তৎকালীন মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং সামরিক বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।

৫ আগস্ট ভোর থেকে শেখ হাসিনার মোবাইল ফোনে ধারাবাহিক যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। ওই দিন তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, ব্যবসায়ী নেতা সালমান এফ রহমানসহ কয়েকজন বেসামরিক ও সামরিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন।

এ ছাড়া দেশ ছাড়ার আগে শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, প্রেস বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা, নিরাপত্তায় থাকা কর্মকর্তা এবং পরিবারের সদস্যদের ফোন থেকেও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

সেসব কললিস্ট থেকে জানা যায়, একজন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েকবার কথা বলেন শেখ হাসিনা। এমনকি বিমানে ওঠার পরও ওই কর্মকর্তা এবং নিজের মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহা বলেন, ৩ আগস্ট থেকেই কয়েকটি নম্বর থেকে ভারতের সঙ্গে কমিউনিকেশন শুরু হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নম্বর মূলত শেখ হাসিনার নম্বর নয়, কিন্তু ভারতের সঙ্গে ফ্রিকোয়েন্ট কমিউনিকেশন হয়েছে। কোন সুনির্দিষ্ট নম্বরে সেটা শনাক্ত করা হয়েছে। সেই কথোপকথন অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্তের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান এই আইনজীবী।

কললিস্টের তথ্য অনুযায়ী, ভারত পৌঁছানোর পর শেখ হাসিনা দেশটির তিনটি নম্বরে কথা বলেন। দেশত্যাগের পুরো প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক ও পারিবারিক পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ, দেশত্যাগের প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে আইনজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের বরাতে জানানো হয়েছে।