logo

কমছে টিভি দেখা, বাড়ছে রেডিও শোনা

কমছে টিভি দেখা, বাড়ছে রেডিও শোনা

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ধারণা করা হয় যে, প্রায় প্রতিটি বাসায় টেলিভিশন দেখা হয়। কিন্তু সে ধারণা পাল্টে দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) একটি জরিপ। বলা হয়েছে, দেশে টেলিভিশন দেখার সংখ্যা কমেছে আর রেডিও শোনার সংখ্যা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস কার্যালয়ে ‘আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ শীর্ষক প্রকল্পের জরিপ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, ২০২২ সালে দেশে রেডিও ব্যবহার করত ১২.৮ শতাংশ পরিবার। ২০২৪-২৫ সালের জরিপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫.৩ শতাংশে। অন্যদিকে, পরিবারভিত্তিক টেলিভিশনের ব্যবহার ৬২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯.৬ শতাংশে।

ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে জরিপে বলা হয়, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার বাড়লেও দক্ষতা ও ব্যবহারের ধরনে বৈচিত্র্য এবং বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বিবিএসের সাম্প্রতিক জরিপে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহারে মৌলিক দক্ষতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কপি-পেস্ট করার প্রবণতা, যা ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে বিদ্যমান।

জরিপে দেখা যায়, দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে মোট ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। তবে এই ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। শহর এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ।

জরিপে আরও দেখা যায়, দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তবে নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে, কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনও খুবই সীমিত—মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। পরিবারভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকায় ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সবচেয়ে বেশি, বিপরীতে পঞ্চগড়ে সবচেয়ে কম। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের দিক থেকেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঠাকুরগাঁও।

ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন মাসে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারি চাকরিসংক্রান্ত তথ্য খুঁজেছেন, যা সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খেলাধুলাসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান, যা ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ছাড়া ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন।

ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে কপি-পেস্ট করার মতো মৌলিক কাজের বাইরে নিরাপত্তা সচেতনতার কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে জরিপে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা সাইবার আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ঝুঁকির জায়গাও রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার।

এ ছাড়া উচ্চমূল্যের কারণে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক ইন্টারনেট সেবা গ্রহণে অনাগ্রহী বলে জানিয়েছেন, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জরিপের এ ফলাফল থেকে স্পষ্ট, দেশে ইন্টারনেটের প্রসার ঘটলেও এর সুষম ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী সেবার নিশ্চয়তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।