সবচেয়ে কম ইন্টারনেট ব্যবহার হয় শেরপুরে

দেশের ডিজিটাল বিপ্লবের এই যুগেও ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে শেরপুর জেলা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে শেরপুরেই ইন্টারনেট ব্যবহারের হার সবচেয়ে কম। এই হার ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ এবং ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে ব্যবহার ২০২৪-২৫ শীর্ষক এ জরিপে এই প্রথম জেলাভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
জরিপে দেখা যায়, দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে মোট ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। তবে এই ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। শহর এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ।
জরিপে আরও দেখা যায়, দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তবে নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে, কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনও খুবই সীমিত—মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
দিনে অন্তত একবার মুঠোফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে। এ ছাড়া গ্রামের তুলনায় শহরের মানুষ মুঠোফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে এগিয়ে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের প্রায় ৩৫ শতাংশ ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সি।
জরিপে অংশগ্রহণকারীর ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ জানিয়েছেন, ইন্টারনেটের বেশি খরচের কারণে তারা এটি ব্যবহার করতে আগ্রহী নন, বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি।
ইন্টারনেট ব্যবহার করে মানুষ কী কাজ করে, সে বিষয়টিও জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে, দেশের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে সেবা বা পণ্য কিনে থাকে। তবে ইন্টারনেট ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য। ৬৪ শতাংশ ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার হয়। এর পরই ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে খেলাধুলার তথ্য জানতে ইন্টারনেটের ব্যবহার হয়।
ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে কপি-পেস্ট করার মতো মৌলিক কাজের বাইরে নিরাপত্তা সচেতনতার কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে জরিপে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা সাইবার আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ঝুঁকির জায়গাও রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার।
এ ছাড়া উচ্চমূল্যের কারণে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক ইন্টারনেট সেবা গ্রহণে অনাগ্রহী বলে জানিয়েছেন, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জরিপের এ ফলাফল থেকে স্পষ্ট, দেশে ইন্টারনেটের প্রসার ঘটলেও এর সুষম ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী সেবার নিশ্চয়তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।