logo

বিদেশি মিশনে আইন কর্মকর্তার প্রয়োজন দেখছে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় 

বিদেশি মিশনে আইন কর্মকর্তার প্রয়োজন দেখছে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় 

বিশ্বের ২১টি দেশে বাংলাদেশের হাইকমিশন, দূতাবাস ও কনস্যুলেট তথা মিশনে শ্রম উইং কার্যকর রয়েছে। এসব উইংয়ে চারজন করে জনবল থাকলেও নতুন করে একজন আইনবিষয়ক কর্মকর্তাসহ তিনটি করে পদ সৃষ্টি করতে চায় প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বিদেশি মিশনে আইন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রাসঙ্গিকতা দেখছে না তারা। 

বিষয়টি নিয়ে রোববার (১২ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশন প্রধানদের এক ভার্চুয়ালি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার আহমেদ। 

মিশনগুলোতে বাংলাদেশ থেকে একজন করে আইনবিষয়ক কর্মকর্তা এবং নিজ নিজ মিশনে স্থানীয়ভাবে একজন করে আইন সহকারী ও গাড়িচালকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করাই ছিল ওই সভার উদ্দেশ্য। মিশনের শ্রম উইংয়ে নতুন জনবল নিয়োগের এ উদ্যোগের বিষয়ে গত শনিবার (১১ এপ্রিল) সংবাদ প্রকাশ করে এশিয়া পোস্ট। 

রোববারের বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিদেশি মিশনগুলোতে আইনবিষয়ক কর্মকর্তার পক্ষে স্বাগতিক দেশের জটিল ও পরিবর্তনশীল শ্রম আইন, বিচার প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক কাঠামো যথাযথভাবে অনুধাবন করা বাস্তবসম্মত নয়। আবার স্বাগতিক দেশে ওই আইন কর্মকর্তার আইন অনুশীলনও বাস্তবিক নয়। কারণ, তিনি ওই দেশের বার কাউন্সিল কর্তৃক নিবন্ধিত নন। আর এই নিবন্ধন পাওয়াও তার জন্য সম্ভব নয়। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাগতিক দেশের আইনি প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা প্রচলিত কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি। এ ছাড়া এ ধরনের পদ সরকারের জন্য স্থায়ী আর্থিক দায় তৈরি করবে। 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তার জন্য কিছু প্রস্তাব দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের মতামত, নিজেদের কর্মকর্তা নিয়োগ না দিয়ে স্বাগতিক দেশের (ইউরোপ ছাড়া) শ্রম আইনে দক্ষ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবী বা আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের সেবা নেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। আর ইউরোপের দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে শ্রমশক্তির আমদানিকারক নয়। এ ছাড়া তাদের শ্রম আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইংয়ের নিয়মিত যোগাযোগ বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। 

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়ও আইন কর্মকর্তা বা আইনি পরামর্শক নিয়োগের প্রাসঙ্গিকতা নেই বলে মত দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের আইনি জটিলতা সমাধানে অসচ্ছল প্রবাসীদের সহায়তার জন্য মিশন প্রধানদের তত্ত্বাবধানে বিশেষ তহবিল গঠনের কথা বলেছে তারা। এসব প্রস্তাবনা অনুসরণ করেও বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্ভব বলেও মনে করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

সামগ্রিক বিষয়ে জানতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার আহমেদের সঙ্গে কয়েক দফায় ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি নামাজে আছেন। তারপর আরও কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।