logo

জনগণ আমাদের অঙ্গীকারকে সমর্থন দিয়েছে, এবার বাস্তবায়নের পালা: তারেক রহমান

জনগণ আমাদের অঙ্গীকারকে সমর্থন দিয়েছে, এবার বাস্তবায়নের পালা: তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার আগেই আমরা বিস্তারিতভাবে দেশের জনগণের সামনে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা প্রকাশ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সই করেছিলাম। জনগণ আমাদের প্রতিটি অঙ্গীকারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। এবার আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পালা।’

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, জনজীবনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে বর্তমানে এক বিশালসংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অর্থনীতি নয়, শিক্ষাব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে এসেছিল। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও অবশ্যই কর্মমুখী করতেই হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়নের কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন খাতে পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’

বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে উপস্থাপিত দলীয় ইশতেহার ও ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের সমর্থন নিয়েই এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সত্ত্বেও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এখনও মূল্য সমন্বয় করেনি; বরং ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।’

বাংলাদেশের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা অর্জনের ৫৫ বছর পর দেশ অনেক দূর এগিয়েছে, তবে এখনও অনেক অপূর্ণতা রয়ে গেছে। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই।’

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির মধ্য দিয়েই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বৃহৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অতীতে শিক্ষা খাতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

সবশেষ স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের আবারও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে প্রয়াত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের এইসব অর্জন একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক স্বীকৃতি পাবে।