এবারের পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, মঙ্গল বা আনন্দ নামে নয় এবার ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা উদযাপিত হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শোভাযাত্রার নাম আনন্দ কিংবা মঙ্গল নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এই বিতর্কের কোনো মানে হয় না। আমরা কোনো বিভাজন চাই না। বৈচিত্র্যের মাধ্যমে আমরা ঐক্য চাই। এখন থেকে প্রতিবছর এই নামই থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, এবারের পহেলা বৈশাখে উদযাপনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিএনসিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকবে।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর চালু নিয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবা মন্ত্রী আরও বলেন, কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো শেষ হলেই শিগগিরই জাদুঘর চালু হবে।
এদিকে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নববর্ষ উদযাপনকে জাতীয় উৎসবে পরিণত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে বিস্তৃত আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের বাণীসহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে বর্ষবরণ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন; ছায়ানটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান; সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ; সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার।
এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৈশাখী র্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলা আয়োজন; বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কর্মসূচি; সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন; শিশু একাডেমির মাধ্যমে শিশুদের অংশগ্রহণে বিশেষ সাংস্কৃতিক কার্যক্রম; বিসিকের উদ্যোগে বৈশাখী মেলা আয়োজন করা হবে।
এর পাশাপাশি কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে বিশেষ খাবার পরিবেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করা হবে।
কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সব নাগরিককে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, পহেলা বৈশাখের (১৪ এপ্রিল) অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো বর্ণাঢ্য বৈশাখী র্যালি বা শোভাযাত্রা, যা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শোভাযাত্রা সবচেয়ে বিখ্যাত হলেও বর্তমানে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ আনন্দ র্যালি আয়োজিত হয়। র্যালিতে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী মুখোশ, পুতুল ও লোকজ শিল্প প্রদর্শিত হয়।