logo

গণভোটের রায় মেনে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি

গণভোটের রায় মেনে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি

নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে গণভোটের মাধ্যমে দেওয়া জনগণের রায় মেনে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশ ও সংলাপে এ দাবি তোলা হয়। ‘জুলাইয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও নতুন সংসদের কাছে নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে নতুন গঠিত ‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’।

গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাসরুরের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও আইনজীবী শিশির মনির, এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান হাসনাত কাইয়ুম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার ফুয়াদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য ও কয়েকটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে জুলাই রাজবন্দি অ্যালায়েন্স, মঞ্চ ২৪, তারুণ্যের জুলাইসহ জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম, সুজনের বদিউল আলম মজুমদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. দিলারা জামান, মানবাধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ, নারী সংগঠক ও উদ্যোক্তা ফারহানা সূচি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শিব্বির আহমেদ এবং ভয়েস ফর রিফর্মের হাসিব হোসেন। 

বক্তারা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার সভার সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এটি গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, সংবিধান সংস্কার সভার শপথ নেওয়া ৭৮ জন সংসদ সদস্যের উচিত দ্রুত সভার অধিবেশন আহ্বান করা। 

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে বিচারবিভাগকে জড়ানো অতীতেও কার্যকর ফল দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না। তার মতে, জুলাই বিপ্লব সংবিধানের কাঠামোর ভেতরে সংঘটিত হয়নি। সংবিধানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে শুধু অন্তর্বর্তী সরকার নয়, বর্তমান সরকারকেও আদালত অবৈধ ঘোষণা করতে পারে।

এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সব পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন। 

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অতীত ইতিহাসে দেখা যায় যে, ব্যাপক ভোটে নির্বাচিত সরকারও কখনও কখনও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জনচাপের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান হাসনাত কাইয়ুম বলেন, গণভোট এবং জুলাই সনদের বিষয়টি আদালতে নেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত। তার মতে, রাজনৈতিক প্রশ্নের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই হওয়া উচিত। 

তিনি বলেন, অতীতে শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আদালতকে ব্যবহার করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার একই ভুল করবে না।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, এনসিপি সংসদের ভেতরে এবং বাইরে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাবে। জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই জনগণের প্রতি এই অঙ্গীকার।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে শহিদুল আলম বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যে রায় দিয়েছে, তার সঙ্গে সবাই একমত না হলেও গণতন্ত্রের স্বার্থে সেই রায় মেনে নেওয়া বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। 

তিনি বলেন, জনগণ সংবিধানের ঊর্ধ্বে এবং জনগণের রায় অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ নেই। ছোটখাটো মতপার্থক্যের কারণে বড় অর্জন নষ্ট করা ঠিক হবে না।