অনুষ্ঠানে গিয়েও বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেন না মোহন রায়হান

অবশেষে আটকে গেল কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখায় ২০২৫ সালের বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্য মোহন রায়হানসহ নয়জনের নাম ঘোষণা করা হয়। কবিতার জন্য মোহন রায়হানকে নির্বাচন করা হলেও বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে শেষপর্যন্ত তার পুরস্কার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা একাডেমি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে নির্বাচিত নয়জনের মধ্যে আটজন লেখকের নাম ঘোষণা করেন উপস্থাপক। একে একে তারা মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার নেন। পরে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলা একাডেমির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় অনুষ্ঠানের সামনের সারিতে উপস্থিত থাকলেও মঞ্চ থেকে মোহন রায়হানের নাম ঘোষণা করা হয়নি। এ নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে গুঞ্জন শুরু হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নীরবে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন মোহন রায়হান।
পরে নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে মোহন রায়হান লেখেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, সালাম জানবেন। আপনারা অবগত আছেন, এবার ২০২৫ বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার (কবিতায়), আমাকে প্রদান করা হয়েছিল। এই পুরস্কার আমার একদমই প্রত্যাশা ছিল না। আমি একজনের কাছেও পুরস্কারের জন্য তদবির করিনি। পুরস্কার কমিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে নির্বাচিত করে। গতকাল পুরস্কারপ্রাপ্তদের ডেকে এসএসএফ পুরস্কার গ্রহণের রিহার্সেল প্রদান করে। আজ অনুষ্ঠানের সূচনায়ও আমার নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পুরস্কার প্রদানের সময় আমাকে আর ডাকা হয়নি। জানতে পারলাম, ৪১ বছর আগে কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখা আমার কবিতা ‘তাহেরের স্বপ্ন’ কবিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে একটি মহল আমার পুরস্কার বাতিল করিয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম এশিয়া পোস্টকে বলেন, মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ ওঠায় তার পুরস্কার আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কবি মোহন রায়হানের পুরস্কার না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জানতে চাইলে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আছে। আগের সরকারের সময় বাংলা একাডেমি তাকে এ পুরস্করের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।’
কোন ধরনের অভিযোগ মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে ছিল—এ প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম গণমাধ্যমকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে সরকারকে আমলে নিতে হয়। তাই তাকে আপাতত পুরস্কার দেওয়া হয়নি। আমরা অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখছি। সেগুলো বিবেচনার পর নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। একটু অপেক্ষা করতে হবে।’
এর আগে বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্য মোহন রায়হানের নাম ঘোষণার পর কবি-লেখদের মাঝে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মোহন রায়হানের একটি কবিতায় শহীদ প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠে। প্রগতিশীল ও জাতীয়বাদী ২২ জন লেখকের দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে মোহন রায়হানের পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এশিয়া পোস্টে ‘মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে সমালোচনাকারীদের দাবি, মোহন রায়হানের মন্তব্যসহ পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর এ নিয়ে সর্বমহলে আলোচনার ঝড় ওঠে।
.png)





