logo
Asia Post Desk
AI Testing
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলে ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়। ছবি: এএফপি

ডিজিটাল সেবা এবং বড় প্রযুক্তি ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল পরিমাণ গ্রাহক ও আর্থিক তথ্য থাকে এবং সাইবার হামলার ঝুঁকিও বেশি। পাশাপাশি ক্লাউড, AI ও ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে প্রায় প্রতিটি বড় প্রতিষ্ঠানের জন্যই দক্ষ সাইবার সিকিউরিটি পেশাজীবী প্রয়োজন হবে।

সাইবার সিকিউরিটিতে ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য কম্পিউটার সায়েন্স বা আইটি বিষয়ে ডিগ্রি থাকলে অবশ্যই সুবিধা পাওয়া যায়, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। এসব ছাড়াও এই পেশায় আসা সম্ভব। এখানে দক্ষতার সাথে সাথে সবচেয়ে দরকার দায়িত্ব আর কাজের প্রচন্ড প্রেসার নেয়ার মানসিকতা।

আগামী পাঁচ বছরে সাইবার সিকিউরিটি পেশায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে শুধু প্রচলিত হ্যাকিং বা নেটওয়ার্ক নিরাপত্তার মধ্যে কাজ সীমাবদ্ধ থাকবে না। AI-নির্ভর সাইবার আক্রমণ ও প্রতিরোধ, ক্লাউড সিকিউরিটি, ডেটা প্রাইভেসি, ডিজিটাল ফরেনসিক, থ্রেট ইন্টেলিজেন্স এবং AI সিস্টেমের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন বিশেষায়িত পেশা তৈরি হবে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ব্যাংকিং, ফিনটেক, ই-কমার্স, সরকারি ডিজিটাল সেবা ও গণমাধ্যমসহ প্রায় সব খাত ডিজিটালনির্ভর হওয়ায় সাইবার নিরাপত্তা জনবলের প্রয়োজন আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বড় প্রতিষ্ঠানে শুধু সিকিউরিটি টিম নয়, Chief Information Security Officer (CISO), Security Architect এবং Cyber Risk Manager–এর মতো লিডারশিপের নতুন নতুন পদও বাড়বে।

প্রথম বছরটাকে মূলত একটা শক্ত ভিত্তি তৈরির সময় হিসেবে দেখব। শুরুতে কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিংয়ের বেসিকটা ভালোভাবে বুঝতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে লিনাক্স, পাইথন, ওয়েব সিকিউরিটি, ইথিকাল হ্যাকিং এবং বিভিন্ন সিকিউরিটি চেকিং টুলস এর সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। ছোট ছোট বাস্তব প্রজেক্টে কাজ করে শেখাগুলো প্রয়োগ করতে হবে। বছর শেষে ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন পরিক্ষায় অনলাইনে অংশ নিয়ে সার্টিফিকেট অর্জন এবং নিজের করা কয়েকটি বাস্তব প্রজেক্ট থাকলে একজন তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য বেশ ভালোভাবে প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারবে।

বাংলাদেশে বসে আন্তর্জাতিক সাইবার সিকিউরিটিতে কাজ করার সুযোগ দিন দিন বেড়েছ। বর্তমানে সেটা অনেক বেশি। রিমোট সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট, এসওসি অ্যানালিস্ট, পেনিট্রেশন টেস্টার, থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ও সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। ভালো ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা এক্ষেত্রে বেশ জরুরী।

AI শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার আক্রমণও অটোমেটেড হচ্ছে। একজন সাইবার অপরাধী এখন একসঙ্গে অনেকগুলো যায়গায় এটাক করতে পারছে কিংবা তার হয়ে তার ট্রেইন করা বট এসব এটাক করে রিপোর্ট দিচ্ছে। তাই AI এর ব্যাবহার বাড়ার সাথে সাথে , AI কাজে লাগিয়ে সাইবার ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে, এমন দক্ষতারর প্রয়োজনও তত বাড়বে।

এটা মুলত আগ্রহের যায়গা থেকে কাজ করতে করতেই হয়েছে। আমি ছোটবেলা থেকেই টেকনিক্যাল কাজে আগ্রহ খুব বেশি। ফলে যখনই কোনো সমস্যা দেখতাম অনলাইন নিউজ বা এজাতীয় কোথাও, তখনই মনে হতো যদি এটার সমাধান আমি করতে পারতাম। মুলত শুরুটা এখন থেকেই।বিভিন্ন সিকিউরিটি বিষয় শেখা, কোর্স করা, টিউটোরিয়াল দেখা ও হাতে-কলমে কাজ করেছি, পরে ধীরে ধীরে এটাকে পেশাগতভাবে নিই।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সঠিক গাইডলাইনের অভাব। ৮/১০ বছর আগে কোন বিষয় আগে শিখব, কোথা থেকে শুরু করব বা বাস্তবে কীভাবে কাজ করব, এসব নিয়ে কোনো ধরনের গাইডলাইন পাইনি আমি। ফলে পড়াশুনা বা অন্য কাজের পাশাপাশি এসব বিষয়ে নিজে নিজে শিখতে হয়েছে।

শুরুর দিকে সাইবার সিকিউরিটিকে আমার কাছে অনেকটা রোমাঞ্চকর পেশা মনে হয়েছিল। কিন্তু অনেকগুলো বড় কাজ করার পর এখন মনে হচ্ছে এটি একই সঙ্গে প্রচণ্ড মানসিক চাপের এবং অনেক বেশি দায়িত্বশীল একটি জায়গা।

ক্যারিয়ারের শুরুতে আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল অনেক কিছু একসাথে শিখতে চাওয়া। কিংবা মাঝপথে একটা ছেড়ে অন্য টপিকে চলে যাওয়া। নতুনদের আমি বলব, শুরুতেই সবকিছু জানার চেষ্টা না করে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপরে নিজেকে দক্ষ করতে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোনো বিষয়ে না জেনে সমাধানের দায়িত্ব না নেয়া।

এজাতীয় সমস্যায় অগনিতবার পরেছি। বিশেষ করে যখন অন্য কেউ কোনো সাইবার হামলার শিকার হয়ে অনেকগুলো ভুল স্টেপ নিয়ে সমস্যাটাতে আরো জটিল ও রিকভারে দীর্ঘ সময়ের দিকে ঠেলে দিয়ে তারপর যোগাযোগ করে।

আগে মূল ফোকাস ছিল ওয়েবসাইট বা সিস্টেম হ্যাকিং। এখন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, ডেটা ও অ্যাক্সেসও বড় টার্গেট।AI ব্যবহার করে এখন ফিশিং, স্ক্যাম, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আরও বিশ্বাসযোগ্য ও দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে। আগে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি আলোচনা হতো, এখন একটি সাইবার আক্রমণ পুরো প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে ।এটি এখন প্রতিষ্ঠানের লাভ ক্ষতি কিংবা সুনামের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।