বাংলাদেশের সরকারি ছুটি কি সবার চেয়ে বেশি

সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াও ক্যালেন্ডারের ঘরে কিছুদিন বিশেষভাবে চিহ্নিত থাকে। সেগুলো সরকারি ছুটি। বছরের শুরুতেই মোট কয়দিন সরকারি ছুটি থাকছে, তা নিয়ে আগ্রহ থাকে সবার। ছুটির সঙ্গে সময়সুযোগ মিলিয়ে কোথাও ভ্রমণ, কিংবা দেশের বাড়ি যাওয়া—এসব নিয়ে অনেকে আগেভাগে পরিকল্পনাও করেন। তবে সরকারি ছুটির চল একেক দেশে একেক রকম।
চলতি বছরের ক্যালেন্ডার ও বিশ্বজুড়ে সরকারি ছুটি নিয়ে করা বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতিসংঘভুক্ত ১৯০টি দেশে গড়ে ১৩টি সরকারি ছুটি থাকে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে সরকারি ছুটির সংখ্যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে অনেক বেশি, চলতি বছরে এই ছুটির সংখ্যা ২৯টি। ৩০টি ছুটি নিয়ে তালিকায় সবার ওপরে মিয়ানমার। তার পরেই দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী আরেক দেশ শ্রীলঙ্কা ২৫ ছুটি নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে রয়েছে।
বেশি বেশি সরকারি ছুটি আদতে দেশের জন্য কতটা ইতিবাচক, সেটি আলাপসাপেক্ষ। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশে সরকারি ছুটি কেন বেশি, তার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ। মূলত ধর্মীয় বৈচিত্র্য এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোর কারণে বাংলাদেশের ছুটির তালিকা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। বাংলাদেশের এই দীর্ঘ ছুটির তালিকার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ, বহু ধর্মের উৎসবের স্বীকৃতি। জনসংখ্যার বড় অংশ মুসলিম হলেও এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের প্রধান উৎসবগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় উপলক্ষ্যতেও ছুটি রয়েছে।
২০২৬ সালের সরকারি ক্যালেন্ডারে মুসলমানদের প্রধান দুই উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জন্য রাখা হয়েছে কয়েক দিনের ছুটি। এর পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমী, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বুদ্ধ পূর্ণিমা এবং খ্রিস্টানদের বড়দিন উপলক্ষেও সাধারণ ছুটি বরাদ্দ থাকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাড়তি দুই দিনের ছুটি যোগ হওয়ায় বাংলাদেশের ছুটির তালিকা ২৯ দিনে পৌঁছেছে।
সরকারি ছুটির সংখ্যা পৃথিবীর একেক দেশে একেক রকম। যেমন সুইজারল্যান্ডে ফেডারেল বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সরকারি ছুটি মাত্র এক দিন। আর সেটি হলো তাদের জাতীয় দিবস, ১ আগস্ট। বাকি ছুটিগুলো সেখানকার বিভিন্ন প্রদেশ বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্বতন্ত্রভাবে নির্ধারণ করে।
অন্যদিকে উরুগুয়ের মতো দেশে কার্নিভাল বা পর্যটন সপ্তাহের মতো জনপ্রিয় উৎসবগুলো পালিত হলেও আইনত সেগুলো ‘ওয়ার্কিং হলিডে’ হিসেবে গণ্য হয়, যার ফলে তাদের দাপ্তরিক ছুটির সংখ্যা বেশ কম। মিয়ানমার বা শ্রীলঙ্কার মতো বৌদ্ধপ্রধান দেশগুলোতে আবার চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী পূর্ণিমা ও ধর্মীয় নববর্ষকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ছুটির প্রচলন রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি পালিত ছুটির তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ১ জানুয়ারি বা ইংরেজি নববর্ষ, যা অন্তত ১৬৯টি দেশে পালিত হয়। এর পরেই রয়েছে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় বা স্বাধীনতা দিবস। ধর্মীয় ছুটির ক্ষেত্রে বড়দিন বিশ্বের ১৫৪টি দেশে পালিত হয়, যেখানে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ৭০টিরও বেশি দেশে পালন করা হয়।