টিটন হত্যায় জড়িতদের ‘ছকের ভেতর’ আনার দাবি ডিবির

রাজধানীর নিউমার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের ‘ছকের ভেতর’ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এর অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, টিটন হত্যা মামলা তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের অবস্থান ডিসক্লোজড করতে চাচ্ছি না। আমরা চেষ্টা করছি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খুনিদের মোটরসাইকেলে রায়েরবাজার পর্যন্ত যাওয়ার তথ্য শনাক্ত করা গেছে। রায়েরবাজার পর্যন্ত যেহেতু শনাক্ত করা গেছে, আপনারা ধরে নিতে পারেন আমরা মোটামুটি একটা ছকের ভেতর নিয়ে আসছি। আমরা একটি নির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছি।
গত ২৮ এপ্রিল রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম ২ নম্বরে ছিল।
পুলিশের ধারণা, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যকার অন্তঃকোন্দলের জেরে টিটন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এর সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় পুলিশের একসময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুনকে। তদন্তে উঠে আসে, ওই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিলেন টিটনের ভগ্নিপতি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন।
পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন। প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করলেও পরে ধীরে ধীরে নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। একাধিক হত্যাকাণ্ড, অস্ত্র ব্যবসা ও সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল। এর মধ্যে ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা মামলায় ২০১৪ সালে তার মৃত্যুদণ্ড হয়।
২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তিনি জামিন পেয়ে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।