logo

তুলনা করলে এখনও বাংলাদেশে তেলের দাম অনেক কম: মাহদী আমিন

তুলনা করলে এখনও বাংলাদেশে তেলের দাম অনেক কম: মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জ্বালানি তেলের দাম মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সব দেশেই বাড়ানো হয়েছে। যে কয়টা দেশ একদম শেষ মুহূর্তে দাম বাড়িয়েছে বা যতটা সম্ভব বিলম্বিত করে দাম বেড়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

এ সময় তিনি দাবি করে বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এখনও বাংলাদেশের তেলের দাম অনেক কম।

সোমবার (১ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে প্রেস উইং আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, পাশের দেশ থেকে শুরু করে আঞ্চলিকভাবে আমাদের আলহামদুলিল্লাহ জ্বালানি তেলের দাম এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যে কারণে মূল্যস্ফিতি আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। সামগ্রিকভাবে বিশ্বের যে তেলের জোগান রয়েছে যে সরবরাহ রয়েছে এবং তার সঙ্গে যেভাবে মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশে হয়তো নীতিগতভাবে কিছুটা তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তেল তো আমাদের ইন্টারনাল প্রোডাকশন না; আমাদের গ্লোবাল ডিপেন্ডেন্স রয়েছে। এটা একটা ইম্পোর্ট এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। সুতরাং বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই যতটা সম্ভব সীমিত আকারে বাড়ানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা এসএসএফের সদস্যরা অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা দেখার দায়িত্বে। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকটা ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দলের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে কিছু অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটেছে। এখানে সমন্বয়হীনতা আছে কি না, সমন্বয় করতে নির্দেশনা দিয়েছেন বা দেবেন কি না—এমনটা জানতে চাইলে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজ গণমানুষের নেতা হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অনেক বেশি আবেগ-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেছেন। ওনাকে যখন কাছে পান নেতাকর্মীদের ভেতর একটা স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। যে কারণে দেখা যায় অনেক সময় নিরাপত্তার যে বলয় রয়েছে বা একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে যেভাবে সুরক্ষিত রাখা হয়, কোথাও কোথাও হয়তো কিছুটা বিচ্যুতি ঘটে। এখানে যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন, ওনারাই আসলে সঠিকভাবে বলতে পারবেন যে আমাদের ভবিষ্যতে এটাকে আমরা সামনের দিকে কীভাবে অ্যাডজাস্ট করব।

তিনি আরও বলেন, আমি যতটা জানি ওনারা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। এখানে দুটি বিষয় সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, সামনের দিনগুলোতে আর যেন কোনো অপ্রীতিকর অবস্থা সৃষ্টি না হয়, তার জন্য আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করব। তবে আমার মনে হয় একজন রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি সাধারণ মানুষের দলের নেতাকর্মীর যে আবেগ, অনুভূতি ও আকর্ষণ রয়েছে, এটা তারই বহিঃপ্রকাশ।

সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একটি মন্তব্য করেছেন, যেটা নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। অবশ্য পরে উনি এটা প্রত্যাহার করেছেন। সে ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল পদে থেকে এই ধরনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, এটা সরকারকে বিব্রত করে কি না?

এর উত্তরে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে, ইতিহাসে প্রতিটি পরতে পরতে তা প্রমাণিত। যেমন ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটা ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অনন্যসাধারণ ভূমিকা, এটি বাস্তবতা এবং আজ আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা রয়েছেন, তাদেরও একটি বিশাল অংশ রয়েছেন মেধার ভিত্তিতে, যোগ্যতার ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে উঠে এসেছেন। রাষ্ট্রযন্ত্রে অনেকেই রয়েছেন, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পড়েছেন।

তিনি বলেন, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি যাত্রা শুরু হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার সময়, ১৯৯২ সালে। স্বাভাবিকভাবে তাদের সেই সুদীর্ঘ ঐতিহ্য হয়তো নেই। তবে সময়ের প্রবাহে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ভালো করছে। আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেখেছি যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, তা ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের প্রতিটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে। তারপর খুব কঠিন একটা সময়ে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে পাবলিক ইউনিভার্সিটি, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে।

বর্তমান সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বনাম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এভাবে চিন্তা করে না উল্লেখ করে এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা মনে করি প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একে অপরের পরিপূরক, কম্পিটিটর নয়। তারা প্রত্যেকে একজন আরেকজনকে কমপ্লিমেন্ট করে, যার কারণে আমরা দেখি অনেকেই হয়তো ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স করছে, নর্থ সাউথ থেকে মাস্টার্স করছে, আবার অনেকেই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স করছে, ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করছে। তার মানে আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশ।

প্রতিটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আগামী বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। যেখানে আমাদের নতুন প্রজন্ম রয়েছেন, তারা মেধাবী হবেন, তাদের দক্ষতা তৈরি হবে, তাদের মাঝে সুনাগরিকের গুণাবলি তৈরি হবে, বলেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে বিশ্বাস করি আগামী বাংলাদেশকে যদি আমাদের একসঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে কে কোন ইউনিভার্সিটি, সেটা বিবেচ্য না। আমরা সততা, দক্ষতা, যোগ্যতার মাধ্যমে মেধা মূল্যায়ন করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশকে তুলতে চাই। যেখানে সরকারের দিক থেকে সর্বোচ্চ নীতিগত সহযোগিতা থাকবে প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান এবং প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।