চলতি বছরের ৯ মাসে মব সহিংসতায় নিহত ২৩৫

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মব সহিংসতায় ২৩৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫৪০ জন। অর্থ্যাৎ এ সময়ে মবের শিকার হয়েছেন ৭৭৫ জন। এর মধ্যে গত আগস্টে সবচেয়ে বেশি ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সম্প্রতি মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৬১২টি। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪৯ জন। আহত হয়েছেন ৬৬৪ জন।
এমএসএফের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় মব সহিংসতা তুলনামূলক কম ছিল। জানুয়ারিতে ২৯টি ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী প্রতি মাসে মব সহিংসতার পরিমাণ বাড়তে থাকে। ফেব্রুয়ারিতে মব সহিংসতার ঘটনা ঘটে ৩১টি। এ সময় নিহত হয়েছেন ১৮ জন, আহত ৩৩ জন। মার্চে ৩৬টি ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৩১ জন আহত হন। এপ্রিলে ৪৯টি ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৪৯ জন আহত হন। মে মাসে সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যায় ২০টি। ওই মাসে ৬৯টি ঘটনায় নিহত ৩২ ও আহত হন ৭১ জন। জুনে মব সহিংসতা পৌঁছে যায় আরও ভয়াবহ পর্যায়ে। ওই মাসে ৭৮টি ঘটনায় প্রায় হারায় ৩৩ জন, আহত হন ১২৬ জন।
এ ছাড়া জুলাইয়ে মব সহিংসতার ঘটনায় নিহত হন ৩৫ জন, আহত হন ৭৪ জন। আগস্টে ৩৫ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৭৪ জন। তবে সেপ্টেম্বরে কমেছে নিহতের সংখ্যা। ওই মাসে মব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ২৩ জন, আহত হয়েছেন ৭৪ জন।
এমএসএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিরোধের ঘটনা প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। এ ছাড়া যৌন সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে মব সহিংসতার নতুন ও উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে ধর্ষণচেষ্টা বা নিপীড়নের অভিযোগ-সংক্রান্ত ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ জন।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন আসকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মব সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৪ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৭ জন। আর চট্টগ্রামে ৩৪, খুলনায় ২০, রাজশাহীতে ১৫, বরিশাল ও ময়মনসিংহে ১১ জন করে এবং রংপুর বিভাগে জন নিহত হয়েছেন।
