logo

এবার পাম্পে মিলছে না গ্যাস, সংকট না সিন্ডিকেট?

ইজমো আহম্মেদ
এবার পাম্পে মিলছে না গ্যাস, সংকট না সিন্ডিকেট?
ইনসেটে রাজধানীর একটি পেট্রোল পাম্পে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের ধাক্কা এসেছিল বাংলাদেশেও। সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোয় দিনের পর দিন তেলের জন্য যানবাহন নিয়ে মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্লান্তিকর অপেক্ষা ও দীর্ঘ লাইন যেমন ছিল, একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে, দ্রব্যমূল্যে এবং সর্বোপরি গোটা অর্থনীতিতে।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই দেশজুড়ে এবার শুরু হয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। রাজধানীর সিএনজি এবং এলপিজি ফিলিং স্টেশনগুলোয় দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি অনেক জায়গায় মিলছেও না চাহিদামতো গ্যাস। মাত্র স্বস্তির নিশ্বাস নিতে যাওয়া যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষ আবার পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

তারা হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, তেলের দাম বাড়ার পর থেকে গাড়ি গ্যাসে চালাচ্ছেন, এখন যদি গ্যাসও পাওয়া না যায়, তবে তাদের মতো চাকরিজীবী চালকদের চাকরি বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়বে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর পরিবাগ, মহাখালী, তেজগাঁও, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জানতে চাইলে সিএনজি অটোচালক বাবু মিয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, আগে যেখানে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে গ্যাস নেওয়া যেত, এখন সেখানে তিন থেকে চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও লাইনে গ্যাসের প্রেশার (পিএসআই) কম থাকায় মিলছে না ফুল ট্যাংক গ্যাস।

আরেক সিএনজি অটোচালক শহীদ আহমেদ বলেন, অর্ধদিবস চুক্তিতে গাড়ি চালাই ভাই। এখন গ্যাস নিতেই যদি তিন ঘণ্টা জ্যামে আর লাইনে বসে থাকা লাগে, তবে যাত্রী টানব কখন আর মালিকের জমা দেব কীভাবে? সারা দিন শেষে পকেটে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকাও থাকছে না।

প্রাইভেট চালক মামুন বলেন, আজ সকালে মিরপুর ও শ্যাওড়াপাড়াসহ তিনটা পাম্প ঘুরলাম। কোথাও মিলছে না গ্যাস। একদিকে গ্যাসের প্রেশার নাই, অন্যদিকে লাইনের শেষ মাথায় গিয়ে গ্যাস পাব কি না, তাও নিশ্চিত না। তেলের দাম বাড়ার পর থেকে গাড়ি গ্যাসে চালাচ্ছি, এখন যদি গ্যাসও না পাওয়া যায়, তবে আমাদের মতো চাকরিজীবী চালকদের চাকরি বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়বে।

আরেক প্রাইভেট চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে তেলের দাম বাড়ানোর পর তেলের সংকট কেটে গেছে। হয়তো একটি সিন্ডিকেট এবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য পাঁয়তারা করছে। দাম বাড়ালেই আবার তেলের মতোই গ্যাসেরও সংকট কেটে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষরা জানায়, জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকার কারণে তারা কম্প্রেসার চালাতে পারছেন না। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে গ্যাসের চাপ ১৫ পিএসআই থাকার কথা, সেখানে অনেক এলাকায় তা ৫ থেকে ৬ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে। ফলে প্রতি গাড়িতে গ্যাস লোড করতে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি সময় লাগছে।

রাজধানীর পরীবাগে অবস্থিত পেট্রোল পাম্প পূর্বাচল ট্রেডার্সের হিসাবরক্ষক মো. দুলাল এশিয়া পোস্টকে বলেন, গ্রাহকদের ক্ষোভ আমরা বুঝতে পারছি, কিন্তু আমাদেরও হাত-পা বাঁধা। জাতীয় গ্রিড থেকেই গ্যাসের প্রেশার (চাপ) পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ১৫ থেকে ২০ পিএসআই প্রেশার থাকে, এখন সেটা নেমে এসেছে ৫ থেকে ৬ এ। এই কম প্রেশারে আমাদের কম্প্রেসার মেশিনগুলো ঠিকমতো চালানো যায় না, জোর করে চালাতে গেলে মেশিন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তিনি আরও বলেন, একেকটা গাড়ি ফুল লোড করতে আগে যেখানে ৩ থেকে ৪ মিনিট লাগত, এখন লাগছে ১২ থেকে ১৫ মিনিট। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমাদের পক্ষে এই দীর্ঘ লাইন ছোট করা কোনোভাবেই সম্ভব না।

এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় গ্যাসচালিত গণপরিবহন কম থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী ও পেশাজীবী মানুষ এবং সাধারণ যাত্রীরা।

রাজধানীর সড়কে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত যানবাহন। আর এই সুযোগে সিএনজি অটোরিকশা ও অ্যাপসভিত্তিক চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।