logo

আত্মরক্ষার্থে নিয়ে যাওয়া রামদা দিয়েই ফয়সালকে কুপিয়ে হত্যা করেন বিপু 

আত্মরক্ষার্থে নিয়ে যাওয়া রামদা দিয়েই ফয়সালকে কুপিয়ে হত্যা করেন বিপু 

সাভারের আশুলিয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে ফয়সাল মোল্লা (৩৫) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে তারই দূর সম্পর্কের মামাতো ভাইয়েরা। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে হত্যায় ব্যবহৃত রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জানা গেছে, হত্যায় ব্যবহৃত রামদাটি আত্মরক্ষার্থে নিয়ে গিয়েছিলেন ফয়সাল নিজেই। 

বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উত্তরার পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ।

এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া এলাকায় প্রকাশ্য কুপিয়ে হত্যার এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরের দিন নিহতের বাবা মো. হুমায়ন কবির বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন।

গ্রেপ্তার বিপ্লব হাসান বিপু (২৮) সাভারের আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া গ্রামের মো. আরজুল হকের ছেলে। গ্রেপ্তারের পর বিপ্লব আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া বিপুর আশুলিয়ায় একটি গরুর খামার রয়েছে। সেখানে রহিম ও মুজিব নামের দুই কর্মচারী কাজ করেন, যারা গরুর ঘাস কাটার পাশাপাশি মাদকসেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। হত্যাকাণ্ডের দিন ওই দুই কর্মচারীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যান ফয়সাল। বিষয়টি জানতে পেরে বিপু ফয়সালের বাবাকে ফোন করলে তিনি ‘যা ইচ্ছা তা করতে’ বলেন বলে অভিযোগ। পরে কর্মচারী রহিমের মোবাইল থেকে বিপুকে নার্সারির একটি বাগানে গিয়ে মোবাইল নিয়ে যেতে বলে ফয়সাল। এরপর বিপু তার সহযোগী রিপন ও মিনহাজকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সেখানে যান। ঘটনাস্থলে ফয়সালের সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফয়সাল মোবাইল দুটি ফিরিয়ে দেন। এ সময় তার হাতে একটি রামদা ছিল। কিছুক্ষণ পর বিপুর বড় ভাই মাসুদ অটোরিকশায় করে সেখানে পৌঁছে রড দিয়ে ফয়সালকে মারধর শুরু করেন। তখন বিপু কৌশলে রামদাটি কেড়ে নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই ফয়সালের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ ও পিবিআই পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে। পরে ১৯ এপ্রিল পিবিআই মামলাটি নিজেদের কাছে নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর থেকে বিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি এম এন মোর্শেদ বলেন, হত্যাকান্ডের পর পরই আসামি ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোন অফ করে পালিয়ে যায় এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর থেকে বিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। 
মাদক ও ছিনতাই নিয়ে পূর্বশত্রুতার দ্বন্দ্বের জেরে দুই ভাই মিলে ফয়সালকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিপুকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে রামদাটি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বিপু সেটি শনাক্ত করেছে। এরপর বিপুকে আদালতে পাঠানো হলে সে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।