logo

নোয়াখালীতে ভোক্তা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে জনবল নিয়োগে সিসিএসের স্মারকলিপি

নোয়াখালীতে ভোক্তা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে জনবল নিয়োগে সিসিএসের স্মারকলিপি

নোয়াখালীতে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে করতে নিয়মিত কর্মকর্তা ও প‌‌র্যাপ্ত জনবল নিয়োগের দাবিতে কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটির (সিসিএস) পক্ষ থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও নোয়াখালী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতির মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পাঠানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি (সিসিএস) একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান যা ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতনতা সৃষ্টিসহ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে। সিসিএসের বর্তমানে ৬৪ জেলায় ও ৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই লাখ ১৭ হাজার স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন। তবে নয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী জেলায় পর্যাপ্ত কর্মকর্তা ও জনবল না থাকায় ভোক্তাদের অধিকার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, নোয়াখালী জেলায় বর্তমানে ৩৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৪২ জন মানুষের বসবাস। এই জেলায় হাসপাতাল, মার্কেট, হোটেল, রিসোর্ট ও পার্কসহ অনেক ধরনের ভোক্তা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কিন্তু নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর নজরদারির অভাবে প্রায়ই ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন। ক্ষেত্রবিশেষে ভোক্তাদের অধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই জেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যিনি আবার পার্শ্ববর্তী ফেনী জেলার কর্মকর্তা। তাকে সহযোগিতা করার জন্য আছেন একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। এতে ভোক্তাদের অধিকার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার কারণে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ অবস্থায় নোয়াখালী সিসিএস পরিবার জনগণের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এবং মানবিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। একইসঙ্গে স্মারকলিপিতে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো- 

১. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ২২ অনুযায়ী এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা ২০১২ এর তপশিল-১ অনুযায়ী নোয়াখালী জেলায় একজন নিয়মিত কর্মকর্তা ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া।

২. অবৈধ সিন্ডিকেট ও বাজার কারসাজি বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনায় পর্যাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ।

৩. ভোক্তাদের অভিযোগ দ্রুত শুনানি ও তদনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ প্রদান করা।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টির গভীরতা অনুধাবন করে আপনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নোয়াখালী জেলার ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর নির্দেশ প্রদান করে আমাদের বাধিত করবেন।