পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে হবে যেভাবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটদান সহজ এবং নিশ্চিত করতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ২৭ অনুসারে ইসি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশে বসেও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়া যাবে।
এ ছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকার বাইরে থাকা সরকারি চাকরিজীবীরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এই নিবন্ধন করেছেন।
গত ১৮ নভেম্বর শুরু হওয়া এই নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শেষ হয় ৫ জানুয়ারি রাত ১২টায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮০ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট নিবন্ধনকারীদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৪ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪৬ জন।
এদিকে বিশ্বের ১২১টি দেশে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৮ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি সূত্র জানায়, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়। প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে নিবন্ধনকারী প্রবাসী ভোটারদের কাছে সব ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ হয়েছে।
যেভাবে পাঠানো হয় পোস্টাল ব্যালট
পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধিত সব ভোটারের কাছে পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত ভোটাররা অ্যাপে দেওয়া ঠিকানায় নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটসহ খাম পান। খাম পাওয়ার পরপরই ভোটাররা মোবাইল অ্যাপে লগইন করে খামের ওপর দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করবেন।
এতে তিনি যে ব্যালট পেপারটি হাতে পেয়েছেন, তা সিস্টেমে শনাক্ত হবে। ভোটাররা নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া বহির্গামী খামে একটি পোস্টাল ব্যালট সম্বলিত খামের মধ্যে পোস্টাল ব্যালট পেপার পাবেন। এর এক পাশে ভোট দেওয়ার নির্দেশাবলি ও অপর পাশে একটি ঘোষণাপত্র সংবলিত একটি পৃথক কাগজ এবং একটি ফেরত খাম থাকবে। ওই খামে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানাও ছাপা থাকবে।
ভোট দিয়ে যেভাবে পাঠাবেন ব্যালট
পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়ায় পাঠানো ব্যালট পেপারে সব প্রতীক ছাপানো থাকবে। আর প্রতিটি প্রতীকের পাশে থাকবে ফাঁকা ঘর। ভোট দেওয়ার আগে ভোটাররা নির্দেশনাপত্র পড়ে ঘোষণাপত্রে যথাযথভাবে ব্যালট পেপারের ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করবেন।
নিরক্ষর/অক্ষম ব্যক্তি অন্য একজন বৈধ ভোটারের সাহায্যে সংশ্লিষ্ট অংশ পূরণ করে সত্যয়ন করবেন। এই ঘোষণাপত্র/সত্যয়নপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ছাড়া ব্যালট পেপারটি বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না।
প্রতীক বরাদ্দের পর অ্যাপের মাধ্যমে অথবা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে ভোটাররা বিষয়টি জানতে পারবেন। ভোট দেওয়ার জন্য ভোটাররা মোবাইল অ্যাপে লগইন করে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের তালিকা দেখতে পাবেন এবং নির্দেশিকাতে প্রদত্ত পদ্ধতিতে ব্যালট পেপারে (ফরম-৭) মুদ্রিত প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘরে টিক (√) চিহ্ন কিংবা ক্রস (x) চিহ্ন দেবেন।
পোস্টাল ব্যালট পেপারে ভোটার ভোট চিহ্নিত করার পর শুধু ব্যালট পেপারটি ছোট খামে রেখে সেটি বন্ধ করবেন। পরে ব্যালট পেপার সম্বলিত খাম এবং স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা ছাপানো খামে প্রবেশ করাতে হবে। পরে তা বন্ধ করে দ্রুততম সময়ে ডাকযোগে পাঠাতে হবে। অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার তার পোস্টাল ব্যালটটি ট্র্যাকও করতে পারবেন।
পোস্টাল ব্যালট যেভাবে সংরক্ষণ হবে
রিটার্নিং অফিসার ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালটের খাম পাওয়ার পর তার ওপর দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে রেকর্ড রাখবেন। এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার গণনার জন্য পাওয়া খাম খুলে প্রথমেই ঘোষণাপত্র যথাযথভাবে স্বাক্ষরযুক্ত কি না, তা পরীক্ষা করবেন। যথাযথভাবে স্বাক্ষরযুক্ত না থাকলে এর সঙ্গে পাওয়া ব্যালট পেপারটি বাতিল হিসেবে সংরক্ষণ করবেন।
তবে যথাযথ স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্র সংবলিত ব্যালটের খাম গণনার জন্য আলাদা বক্সে সংরক্ষণ করা হবে।
পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা
পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি গণনাকক্ষ থাকবে। এ সময় প্রার্থী/ নির্বাচনী এজেন্ট/ প্রার্থীর প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষকরা অন্যান্য কেন্দ্রের মতো একই নীতিমালা অনুসরণে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন। রিটার্নিং অফিসার পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য ডেভেলপ করা সফটওয়্যারে লগইন করে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে দেওয়া ভোটের সামগ্রিক চিত্র দেখতে ও জানতে পারবেন।
সময়ের পরে আসা ব্যালট নিয়ে যে সিদ্ধান্ত
সময়সীমা পার হওয়ার পর যদি কোনো ব্যালট পেপার সংবলিত খাম রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছায়, সে ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালটগুলো রিটার্নিং অফিসার/ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রহণের তারিখ ও সময় উল্লেখসহ সংরক্ষণ করবেন। ওই সংখ্যা পরে প্রকাশ করতে হবে। এটি ভোট হিসেবে গৃহীত হবে না।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে পাওয়া ভোটের হিসাব একীভূত না করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না বলেও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচনী বাকি প্রক্রিয়া
তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার সুযোগ পাবেন এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে পরদিন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি, প্রচার শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়। ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে।