logo
Advertisement

বিএনপিকে নিয়ে রুমিনের বক্তব্য ঘিরে সংসদে হট্টগোল

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
বিএনপিকে নিয়ে রুমিনের বক্তব্য ঘিরে সংসদে হট্টগোল
সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন রুমিন ফারহানা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বিএনপির আমলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট, দুর্নীতি এবং ঋণখেলাপি বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে দেওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে হয়েছে তীব্র হট্টগোল। এ সময় তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। হট্টগোলের কারণে কিছু সময়ের জন্য সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে। একাদশ সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সদস্য থাকলেও দ্বাদশ সংসদে তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস–বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সারকারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।’

রুমিনের এমন বক্তব্যে বিএনপির সংসদ সদস্যরা তুমুল হট্টগোল শুরু করলে তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না, মাননীয় স্পিকার। বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।’

সরকারি ও বিএনপি দলীয় সদস্যদের বাধার মুখে রুমিন বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন লীগের আমল ফিরে গেছি আমরা। লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে; আরও খারাপ আচরণ।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদের বেশির ভাগ সদস্যই ঋণখেলাপি এবং নির্বাচনের আগে নাম কাটানোর জন্য হাইকোর্টে রিট করা পুরোনো সংস্কৃতি।

একপর্যায়ে রুমিনের নির্ধারিত সময় শেষ হলে মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তবে মাইক ছাড়াই তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অশালীন গালি দেওয়ার প্রতিবাদ জানান। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বলেন, একজন সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সব সদস্যকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের প্রত্যেকের এখানে বক্তব্য উপস্থাপনের স্বাধীনতা আছে। আপনাদের সময় এলে তা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। চিফ হুইপ হিসেবে হাউসের শৃঙ্খলা রাখাও আপনার মূল দায়িত্ব।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার তা রুলিং দিতে পারেন বা এক্সপাঞ্জ করতে পারেন, কিন্তু এভাবে বাধা দেওয়া ঠিক নয়। অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিলের মূল আলোচনা ছেড়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় টেনে আনা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের রুমিন ফারহানা জানান, বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন এবং এই হট্টগোলের সময় চিফ হুইপ নিরব ভূমিকা পালন করেছেন।