তেলের মজুত বাড়লেও যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেশনিং চলবে: জ্বালানিমন্ত্রী

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত বাড়তে শুরু করেছে। তবে অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেশনিং করে চলতে হবে।
রোববার (৮ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দুটি তেলবাহী জাহাজ নোঙর করেছে। দুপুর ১১টার দিকে একটি এবং দুপুর ২টার দিকে আরেকটি জাহাজ নোঙর করেছে।
তিনি বলেন, এই দুইটি জাহাজ এসে তেল ডেলিভারি করার পরে আমাদের মজুত আরও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আমরা ইচ্ছামতো তেল খরচ করব। আমরা রেশনিং চালিয়ে যাব, যতদিন পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ না হয়।
রেশনিং চালু রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি কতদিন চলবে তা কেউ জানে না। তাই দেশের মজুত সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করার জন্যই সরকার জনগণকে সতর্কভাবে তেল ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে।
হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, আমরা যদি সব একবারে খরচ করে ফেলি তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যায় পড়তে হবে। তাই চলার মতো ব্যবস্থা করে ব্যবহার করলে আমরা দীর্ঘদিন চলতে পারব।
তিনি বলেন, যেসব তেলবাহী জাহাজ বর্তমানে মাঝ সমুদ্রে রয়েছে বা বিভিন্ন কারণে আটকে আছে, সেগুলো দেশে পৌঁছানো পর্যন্ত বর্তমান মজুত যেন দ্রুত শেষ না হয়ে যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল যাতে চোরাচালান বা কালোবাজারে না যায় সে বিষয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।
এ সময় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তা নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, বিরোধীরা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় একটি দেনাগ্রস্ত ও ভঙ্গুর বিদ্যুৎব্যবস্থা বর্তমান সরকার পেয়েছে। প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে সেই সিস্টেমকে এখনও সচল রাখা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের সহযোগিতা থাকলে ভবিষ্যতেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এই ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।