সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে সন্তোষজনক অগ্রগতি জনপ্রশাসনে

সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ৬ মাস পরে দেখা গেছে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে আশানুরূপভাবে এগিয়ে চলছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে মোট পাঁচটি প্রধান ইশতেহারভিত্তিক প্রতিশ্রুতির অধীনে একাধিক কর্মসূচির বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে নিয়োগ বিধিমালা হালনাগাদে আন্তমন্ত্রণালয় সভা, শূন্য পদ পূরণে সমন্বয়, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠনের উদ্যোগ, সিভিল সার্ভিস আইনের খসড়া প্রণয়নে কমিটি, প্রশিক্ষণ, সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা হালনাগাদ, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার এবং অনলাইন পেনশন কার্যক্রমে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কথা বলা হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারে ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে মেধা, সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন যোগ্যতাই নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন বলেছে— প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে নিয়োগ বিধিমালা/প্রবিধানমালা হালনাগাদ করতে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন, সিভিল সার্ভিস আইন, ই-গভর্ন্যান্স এবং জনবান্ধব জনপ্রশাসন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বর্তমান সরকার। সরকারের কর্মপরিকল্পনার হিসাব বলছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্ধারিত বেশ কয়েকটি প্রাথমিক ও প্রক্রিয়াগত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। তবে সরাসরি প্রশাসনের কাঠামো, নিয়োগ-পদোন্নতির সংস্কৃতি ও সরকারি সেবার মান বদলে দেওয়ার কথা, সেগুলোর বড় অংশ এখনো আইন, বিধি, সফটওয়্যার উন্নয়ন বা কমিটি গঠনের পর্যায়ে রয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থায় পাঁচ লাখের বেশি শূন্য পদে যোগ্যতার ভিত্তিতে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের দ্রুত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পূরণের প্রতিশ্রুতি ছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তার আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থায় গত ছয় মাসে দুই হাজার ৮৭৯টি শূন্য পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু ১৬ আগস্ট পর্যন্ত পূরণ হয়েছে দুই হাজার ৬১টি পদ যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রার ৮৬ শতাংশ। এর মধ্যে মাঠ প্রশাসনে ৯৮১টি, দপ্তর ও সংস্থায় এক হাজার ৪৫টি এবং মন্ত্রণালয়ে ৩৫টি পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের শূন্য পদ পূরণের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৩৩টি। পরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা পাঠানো হয় ৪৪৫টি। এর ফলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার ৮৭৯ থেকে কমে দুই হাজার ৩৯১ হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থায় ১১-২০ গ্রেডের শূন্য পদগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংগ্রহ এবং নিয়োগের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
ইশতেহারে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল। সরকারের ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল কমিশন গঠনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পত্র পাঠানো। পত্র পাঠানোর কাজ শেষ করে এক্ষেত্রে শতভাগ অগ্রগতির তথ্য জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যদিও পত্র পাঠানোর পর বৃহত্তর সংস্কারের দিক থেকে কাজটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।
জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল সংবিধানের আলোকে উপযুক্ত সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন। এই লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রথম সভাও হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে— কমিটির সদস্যরা সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়নের বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে এ কর্মসূচির অগ্রগতি ১০০ শতাংশ, যদিও প্রকৃতপক্ষে আইন প্রণয়নের জন্য এটি একটি সূচনা মাত্র।



