logo

স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়েছে: ডা. জুবাইদা রহমান

স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়েছে: ডা. জুবাইদা রহমান
মঙ্গলবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মতবিনিময় সভায় কথা বলেন ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে কোনো নাগরিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।’

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে সাধারণ জনগণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ এর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই মতনিবিময় সভার আয়োজন করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।

এ সময় ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আজকে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা বস্তিবাসীর জন্য সাধ্যমতো সর্বাত্মক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য। এই এলাকায় মূলত তাদের বসবাস, যারা এই শহরের জীবনযাত্রা চলমান রেখেছে। পোশাকশিল্পকে উজ্জ্বল করেছে। তাদের অসাধারণ শ্রম প্রতিটি কর্মক্ষেত্রকে সচল রেখেছে। কিন্তু শতকরা প্রায় ৪৩ শতাংশ এলাকাবাসী প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমধান খুঁজে স্থানীয় ফার্মেসিতে। তারা যে কোনো মূল্যে সুস্থ হতে চায়। যেন অসুস্থার জন্য ছুটি নিতে না হয়, যা সত্যিই অভাবনীয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাচাঁতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।’

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরুসাহিত ও অসমভাবে বঞ্চিত। মানসম্মত সেবায় প্রবেশাধিকার প্রতিদিন লাখও মানুষের কাছে এক অসময় লড়াই। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ সরাসরি জনগণ বহন করে। ফলে অসুস্থতা এখন দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি সুস্থ, বেশি উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর ও সার্বভৌম দেশ। আমাদের লক্ষ্য, আর কোনদিন কড়াইল-ভাসানটেক ও সাততলার জনগণ চিকিৎসাসেবা থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে বয়োজেষ্ঠ্য সবাই যেন সুচিকিৎসা পায়। অন্তঃসত্ত্বা মা-বোনেরা জটিল সমস্যার সমাধান এবং চিকিৎসা যেন সহজে ও দ্রুত পায়।’

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। পরে আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা সেবার মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ঢাকা-১৭ নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি’র যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।