logo

অব্যবস্থাপনা আর ক্যাম্পেইন না হওয়ায় হামের উচ্চ প্রকোপ: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

অব্যবস্থাপনা আর ক্যাম্পেইন না হওয়ায় হামের উচ্চ প্রকোপ: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, অতীতের অব্যবস্থাপনা এবং ২০২০ সালের পর হামবিরোধী ক্যাম্পেইন না হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার (আওয়ামী লীগ) টিকাদান কভারেজের তথ্য বিকৃত করায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুর আড়াইটায় চলমান হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ অধিদপ্তরের বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। হামের প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ মা ও শিশুদের অপুষ্টি। আমরা দেখছি আক্রান্ত বড় একটি অংশ টিকাগ্রহণের বয়সের আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকে ছয় মাস বয়সেরও কম। এটির পেছনে মায়েদের অপুষ্টি বড় দাযী। কিন্তু পুষ্টির বিষয়টি আমরা গুরুত্ব কম দিচ্ছি।

তিনি বলেন, কোভিড মহামারীতে হামের বিষয়ে সতর্ক করা হলেও সেসময় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এরপর টিকা কাভারেজের তথ্যও বিকৃত করা হয়েছে। বর্তমান সরকারই সবচেয়ে কম সময়ে টিকার ব্যবস্থা করতে পেরেছে। ক্যাম্পেইন শুরুর পর থেকে ইতোমধ্যে কাভারেজের হার শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি উন্নতি হতে শুরু করেছে। তবে পুরোপুরি সুফল পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, টিকা গ্রহণের ১ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

বিশেষ সহকারী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অপ্রতুল বরাদ্দের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (প্রাইমারি হেলথকেয়ার) ব্যবস্থাকে সমন্বিত ও কার্যকর কাঠামোয় রূপ দিতে কাজ শুরু হয়েছে। এজন্য আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ দেবে সরকার।

তিনি জানান, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, নতুন এই ব্যবস্থায় প্রতিটি পরিবার মাসে অন্তত একবার স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা পাবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে থাকবে ব্লাড সুগার ও রক্তচাপ পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, গর্ভবতী নারীদের কাউন্সেলিং, পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের শারীরিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ এবং টিকাদান কার্যক্রম। প্রতিটি নাগরিককে ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড দেওয়া হবে। রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে তাকে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটে পাঠানো হবে। সেখানে চিকিৎসা সম্ভব না হলে উপজেলা কিংবা টারশিয়ারি পর্যায়ের হাসপাতালে রেফার করা হবে।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮ জেলার উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০ উপজেলা ও ১৩ পৌরসভায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপ শুরু হয়। দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তাই খুব শিগগিরই দেশে হামের সংক্রমণ কমে আসবে।

যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি, এমনকি নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুরাও যেন ক্যাম্পেইনের আওতায় হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ করে অভিভাবকদের সেই আহ্বান জানান তিনি।