logo
Advertisement

নতুন আইনে ন্যস্ত মামলার তদন্ত করবে এপিবিএন

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
নতুন আইনে ন্যস্ত মামলার তদন্ত করবে এপিবিএন
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এপিবিএনের ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নতুন আইনের আওতায় মামলা তদন্তের আইনগত ক্ষমতা পেয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। তবে বাহিনীটি স্বতন্ত্রভাবে সব মামলার তদন্ত করবে না। সরকার, আদালত বা পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) যেসব মামলা এপিবিএনের কাছে ন্যস্ত করবেন, সেগুলোর তদন্ত করবে বাহিনীটি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন এপিবিএনের ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান।

শাহজাহান বলেন, ‘নতুন আইনের ফলে এপিবিএনের তদন্ত কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পার্বত্য এলাকার মতো দুর্গম স্থানে জেলা পুলিশের তদন্ত কার্যক্রমে যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে এপিবিএনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে এপিবিএন। বাহিনীটির হিসাবে, ক্যাম্পে প্রায় ১৮ লাখ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ সদস্য।

মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘ক্যাম্প এলাকায় জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্পে মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, নারী নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পাশাপাশি মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আগমনের পর ক্যাম্প এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সূত্রপাত হয়েছে। দুর্গম এলাকায় গিয়ে এসব অপরাধের তদন্ত জেলা পুলিশের জন্য অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে। এ কারণে আগে সরকারের অনুমতি নিয়ে এপিবিএনের নিরস্ত্র সাব-ইনস্পেক্টরদের তদন্তকাজে যুক্ত করা হয়েছিল। নতুন আইনে এ কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি আরও পরিষ্কার হয়েছে।’

সাইবার অপরাধে আলাদা সেল

নতুন আইনে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এপিবিএনের আলাদা সেল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও জানান ডিআইজি। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে এপিবিএনের ভূমিকা আইনে আরও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘বিমানবন্দর বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অংশ হওয়ায় সেখানে পুলিশের এখতিয়ার রয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

বিমানবন্দরে সংঘটিত অপরাধের তদন্ত এপিবিএন করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন আইনে বাধা নেই। আইন অনুযায়ী, কোনো অপরাধের তদন্ত এপিবিএনের কাছে ন্যস্ত হলে বাহিনীটি তা তদন্ত করতে পারবে।’

আগস্টে ৭৮৪ হারানো মোবাইল জব্দ

মতবিনিময় সভায় গত আগস্টে এপিবিএনের বিভিন্ন অভিযান ও কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরা হয়।

ডিআইজি জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় ওই মাসে ৭৮৪টি হারানো ফোন জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে তিনটি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, দুটি হোয়াটসঅ্যাপ, দুটি ই-মেইল ও একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ৫৭২ জনকে সহায়তা দেয়া হয়েছে।

বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ঘটনায় উদ্ধার করা হয়েছে ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা।

মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ৬৫২টি ইয়াবা, ৩ দশমিক ৪৯ কেজি গাঁজা, ৪৩ দশমিক ৭৫ লিটার মদ, ৩৮৭ কার্টন সিগারেট ও ২০৯টি ভেপ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা হয়েছে এবং ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অস্ত্রবিরোধী অভিযানে দুটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রায় ১০ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ

চোরাচালানবিরোধী অভিযানে আগস্টে ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করেছে এপিবিএন। বাহিনীর হিসাবে, এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা। এ ঘটনায় ১৭টি মামলা করে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পাশাপাশি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৬ টাকা বাংলাদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে।

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪৮৩টি মামলা করে ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ক্যাম্প থেকে ৩ শিশু ও ১৯ ভুক্তভোগী উদ্ধার

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অভিযানের তথ্য তুলে ধরে ডিআইজি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২৩টি যানবাহন আটক করে শাহপরীর দ্বীপ হাইওয়ে থানায় পাঠানো হয়েছে। বিক্রয় নিষিদ্ধ রেশন সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

এ ছাড়া ক্যাম্প এলাকা থেকে বিভিন্ন চোরাচালানি ও অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়। একই সময়ে তিনটি নিখোঁজ শিশু ও ১৯ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আগস্টে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএন মিলে মোট ৪৩টি জিআর ও সিআর মামলা করেছে বলেও জানান মোহাম্মদ শাহজাহান।

মতবিনিময় সভায় এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস ও ইন্টেলিজেন্স) নুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার (ইন্টেলিজেন্স) আসমা বেগম রিটা এবং পুলিশ সুপার (ট্রেনিং, ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।