logo

রপ্তানি ধরে রাখতে কঠোর প্রতিযোগিতার বিকল্প নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রপ্তানি ধরে রাখতে কঠোর প্রতিযোগিতার বিকল্প নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

উন্নত দেশগুলো যেখানে ১ থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পায়, সেখানে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান দেশকে ৬ থেকে ১২ শতাংশ বা তারও বেশি সুদ দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মন্দা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা ও জলবায়ু ঝুঁকির কারণে সাশ্রয়ী অর্থায়নে আমাদের প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে এবং তা সম্প্রসারিত করতে আগের চেয়েও আরও কঠোর প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে আয়োজিত ‘রোডম্যাপ টু ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক বাজার ও প্রতিষ্ঠানগুলো এখন উৎপাদন ও বিনিয়োগের প্রবাহ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য মূলধন সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের অনেক বেশি সুদ দিয়ে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা আমাদের চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।

এর পাশাপাশি চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেশের সামগ্রিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বর্তমান জ্বালানি সংকট ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্মরণ করেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতায় কৃষি আধুনিকীকরণ ও মুক্তবাজার নীতিমালার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই সময়ে পোশাক শিল্পের মজবুত ভিত্তি পেয়ে ছিল।

বিশ্ব বাণিজ্যের আধুনিকায়নের প্রসঙ্গ টেনে ড. খলিলুর রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ব্লকচেইন এবং ফাইভ-জি কানেক্টিভিটির মতো আধুনিক উদ্ভাবনগুলো বিশ্ব বাণিজ্যকে বদলে দিচ্ছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই ‘ট্রেড টেক’ পরিস্থিতি একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ও বড় সুযোগ। তবে সবকিছু নির্ভর করছে দেশগুলো কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে সেগুলোর সুবিধা নিতে পারছে, তার ওপর।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে যখন বিশ্ব অর্থনীতি মন্থরতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা তিনটি কৌশলগত লক্ষ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত- স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও অগ্রগতি। আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতিতে এই দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দিতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো দেশের নাগরিক, ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। আমরা সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, বাংলাদেশ এখন স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যবসাবান্ধব।

পররাষ্ট্র নীতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ এই নীতিতে বাংলাদেশ অবিচল থাকবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বাধা দূর করতে ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ড. খলিলুর রহমান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১০০ দিনেই সরকার দেশি-বিদেশি অংশীদারদের কাছ থেকে আশাব্যাঞ্জক সাড়া পেয়েছে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার রাজনৈতিক সদিচ্ছা এই সরকারের রয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্মেলনে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।