logo

ভুয়া তথ্য দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ দখল, পুতুলের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

ভুয়া তথ্য দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ দখল, পুতুলের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ছবি: বাসস

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) ভুয়া তথ্য প্রদান ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সিভিতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় দুদকের কমিশন সভায় এই চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সাইদুর রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পদে লড়তে গিয়ে সায়মা ওয়াজেদ তার সিভিতে উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি) ‘অনারারি স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট’ হিসেবে কাজ করেছেন। তবে দুদকের অনুসন্ধানে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে এমন কোনো পদে আসীন ছিলেন না বা কোনো দায়িত্বও পালন করেননি।

অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রভাব খাটিয়ে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিধিসম্মত কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই না করে জেনেভায় অবস্থিত ডব্লিউএইচও সদর দপ্তরে সিভিসহ নথিপত্র পাঠাতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তার প্রভাব এবং ভুয়া অভিজ্ঞতার তথ্য ব্যবহার করে তিনি আন্তর্জাতিক এই মর্যাদাপূর্ণ পদটি হাতিয়ে নেন, যা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার শামিল।

দুদক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। ছবি: এশিয়া পোস্ট
দুদক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

তিনি বলেন, সম্পূর্ণ তদন্ত শেষে আসামি সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে আনা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় কমিশন কর্তৃক চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে এবং শীঘ্রই তা আদালতে দাখিল করা হবে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ রাজধানীর সাজেক ঢাকা-১ কার্যালয়ে সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়ের করে (মামলা নং-৫০)। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।