logo

বাংলাদেশে হঠাৎ ভানুয়াতু নিয়ে কৌতূহল

বাংলাদেশে হঠাৎ ভানুয়াতু নিয়ে কৌতূহল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হঠাৎ দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্র রিপাবলিক অব ভানুয়াতু নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মূলত ঢাকার একটি আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে দেশটিতে নাগরিকত্ব নেওয়ার পাশাপাশি সেখানে সম্পত্তি থাকার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষের মধ্যে ভানুয়াতু নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ দেশটি সম্পর্কে তেমন পরিচিত না হলেও অপরাধীদের কাছে ভানুয়াতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দেশটির নাগরিকত্বে কী সুবিধা আছে

প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু। অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি অবস্থান হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটি আলোচনায় আসে খুব কমই। তবে সম্প্রতি ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ নামে পরিচিত একটি বিতর্কিত নাগরিকত্ব স্কিমের কারণে দেশটি নতুন করে নজরে এসেছে।

ভানুয়াতু সরকারের এই স্কিমের আওতায় বিদেশিরা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে খুব অল্প সময়ে দেশটির নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পেতে পারেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২০ সালেই ২ হাজারের বেশি বিদেশির কাছে ভানুয়াতুর পাসপোর্ট বিক্রি করা হয়েছে।

এই পাসপোর্টের অন্যতম আকর্ষণ হলো— এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্তত ৯৩টি দেশে ভিসা ছাড়াই অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই সুবিধার তালিকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর নামও ছিল। তবে অর্থ পাচার, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও যাচাই-বাছাই নিয়ে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি ভানুয়াতুর পাসপোর্টধারীদের জন্য এই সুবিধা বাতিল করেছে।

বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব কেনা যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সময় লাগে মাত্র এক থেকে দুই মাস। দ্রুততা ও কম জটিলতার কারণেই এই স্কিম আন্তর্জাতিকভাবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ভানুয়াতুকে অনেকেই ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। কারণ, দেশটিতে ব্যক্তিগত আয়কর নেই, করপোরেট কর নেই। এমনকি সম্পদের ওপরও কোনো কর আরোপ করা হয় না। এই কর-সুবিধাই অনেক ধনী বিদেশিকে ভানুয়াতুর নাগরিকত্বের দিকে আকৃষ্ট করে।

তবে, এসব সুবিধার আড়ালে রয়েছে এক কঠিন বাস্তবতা। ভানুয়াতু বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর একটি। ২০১৪ সালে আঘাত হানা ভয়াবহ সাইক্লোনে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই দুর্যোগের পর থেকে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়ে সরকার।

বিশ্লেষকদের মতে, পাসপোর্ট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই ভানুয়াতু সরকার ঋণ পরিশোধ করছে এবং রাষ্ট্রের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাচ্ছে। এমনকি করোনা মহামারির সময় স্বাস্থ্যব্যবস্থা সচল রাখা ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলাতেও এই আয়ের বড় ভূমিকা ছিল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নিজ দেশ বাদে অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকলে ওই ব্যক্তি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।