ইস্ট বেকার ও ইস্ট কেকে ভেজাল মিশ্রণ, ২৪ লাখ টাকা জরিমানা

খাদ্যে ভেজাল ও মানহীন উপাদান ব্যবহারের দায়ে চীনা নাগরিক ইউ জিবাইয়ের মালিকানাধীন দুটি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে ২৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে শুনানি শেষে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মাহমুদুল হকের আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে বাজার থেকে তাদের সমস্ত ভেজাল ও মানহীন পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে, গতকাল বুধবার চীনা প্রতিষ্ঠান ‘আর বোটিং ফুড কোম্পানি লিমিটেডে’র ‘স্লাইস ব্রেড মিক্স জ্যাম ফিল্ড’ পণ্যে ভেজাল উপাদান মিশ্রণের দায় স্বেচ্ছায় স্বীকার করায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের (অঞ্চল-২ ও ৬) নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও প্রসেকিউটিং অফিসার মোহা. কামরুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথিপত্র ও ডিএসসিসির জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগারের ল্যাব রিপোর্ট থেকে জানা যায়, গত ৩০ জুন সবুজবাগ থানার বাসাবো এলাকার ‘রাহাত স্টোর’ থেকে নমুনা হিসেবে ‘ইস্ট বেকার, স্লাইস ব্রেড মিক্স জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং ‘ইস্ট কেক পুর পিঠা (ইনট্যাক্ট)’ সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ২ জুলাই ল্যাব টেস্ট রিপোর্টে (ডিএসসিসি-৩৬৮ ও ডিএসসিসি-৩৬৬) পরীক্ষা শেষে পণ্যগুলোকে ‘মানসম্পন্ন নয়’ বলে সনদ দেওয়া হয়।
নথিতে দেখা যায়, খাদ্য দুটিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার ছাড়াও বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া প্যাকেটের গায়ে দীর্ঘ ১ থেকে ২ মাসের মেয়াদ লেখা ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৬, ২৭, ৩৯ ও ৪১ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে একই আইনের ৫৮ ধারায় এই প্রসেকিউশন মামলা দায়ের করে।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার আসামি ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিডেট ও ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের মালিক চীনা নাগরিক ইউ জিবাই। শুনানিকালে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করেন এবং বাজার থেকে সমস্ত মানহীন পণ্য নিজ দায়িত্বে উত্তোলন ও ধ্বংস করার অঙ্গীকার করেন।
আদালত তাদের অপরাধ আমলে নিয়ে ২৪ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করেন এবং অবিলম্বে তা পরিশোধের নির্দেশ দেন। এদিকে একই দিনে কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ‘ভেনিলা স্লাইস কেক’ ও ‘চকলেট স্লাইস কেকে’ মানসম্মত উপাদান না থাকায় আদালত প্রতিষ্ঠানটির মালিকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে।
ডিএসসিসির নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো খাবার বাজারে বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া বা মানহীন উপাদান দিয়ে খাদ্য তৈরি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।



