প্রিপেইড মিটার বাতিলসহ ৪ দফা দাবি বিদ্যুৎ গ্রাহকদের

প্রিপেইড মিটার বাতিল করে ডিজিটাল মিটার ফিরিয়ে দেওয়াসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি। একইসঙ্গে বিদ্যুতের দাম কমানো, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ ও প্রিপেইড মিটার বিরোধী আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়। এরপর ‘মিট দ্য প্রেস’– এ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।
লিখিত বক্তব্যে ইসমাইল বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে কৌশলে তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এ খাত দুর্নীতি ও লুটপাটের অন্যতম ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল, যা এখনও বিদ্যমান। ফ্যাসিস্ট সরকারের ৩১টি প্রকল্প বাতিল করা হলেও গ্রাহকদের শোষণ করার যন্ত্র প্রিপেইড মিটার প্রকল্পটি এখনও বহাল রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তৎপর হয়ে উঠছে বর্তমান সরকার। তবে আমরা আগের ডিজিটাল মিটারে ফিরতে চাই।
নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ গ্রাহকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী মশাল মিছিল করবো। ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিকসহ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আমরা একটি রাউন্ড টেবিল করবো।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার কারণে বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে দেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের একটি বড় অংশ। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ব্যয়, রিচার্জ ও বিভিন্ন চার্জ, মিটার-সংক্রান্ত জটিলতা, কারিগরি ত্রুটি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা-এসব কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দিন-দিন অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত সীমিত আয়ের পরিবারের জন্য নিয়মিত রিচার্জের চাপ ও বিভিন্ন ধরনের কর্তনের বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিদ্যুৎ সেবা অবশ্যই স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, সাশ্রয়ী ও গ্রাহকবান্ধব হতে হবে।
চার দফা দাবি হলো:
১. বিদ্যুৎ গ্রাহক ভোগান্তি ও দুর্নীতির প্রি-পেইড মিটার বাতিল করে আগের ডিজিটাল মিটার ফেরত দিতে হবে।
২. বিদ্যুতের দাম কমিয়ে এ খাতের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।
৩. প্রিপেইড মিটার আন্দোলনে নেতাদের নামে করা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. বিদ্যুৎখাত ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের চক্রান্ত প্রতিরোধ এবং বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এ চার দফা দাবি দ্রুত বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় স্মারকলিপিতে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


