এশিয়া পোস্টের অভিনন্দন কার্ড পোস্ট হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার, দৃষ্টান্ত বলছেন বিশ্লেষকরা

অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এশিয়া পোস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে গত ১১ মে (সোমবার)। রাজধানীর পল্টনে বেঙ্গল সেন্টারে অবস্থিত এশিয়া পোস্ট কার্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। উদ্বোধন উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটিকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ফটোকার্ডের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। এই কার্ড তৈরি ও পোস্টিং বা ক্যাম্পেইনের জন্য এশিয়া পোস্টের কোনো খরচ করতে হয়নি। যা কোনো প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের উদ্বোধনী আয়োজনে ‘আর্নড মিডিয়া পিআর’ ক্যাম্পেইনে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে মনে করছেন ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকরা।
এশিয়া পোস্টের উদ্বোধন উপলক্ষে আগের দিন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কার্ড পোস্ট শুরু হয়। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির অফিস থেকে প্রায় নয় হাজার কার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়। কার্ড তৈরির চাহিদা সামলাতে না পেরে ১১ তারিখ সকালে ওয়েবসাইটে অটোজেনারেট করার লিংক সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত ওই লিংক থেকে কার্ড জেনারেট ও ডাউনলোড হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। এছাড়া কয়েক হাজার মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কার্ড তৈরি করে পোস্ট করেছেন।
বাংলাদেশে ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করেন এমন একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে এ পর্যন্ত যেসব বড় বড় কোম্পানি ও পণ্য উদ্বোধন (লঞ্চিং) হয়েছে তার মধ্যে এশিয়া পোস্টের এই প্রচারণা ছিল সেরা। ইতোপূর্বে এমন অভূতপূর্ব সাড়া আর কখনো দেখা যায়নি। এর আগে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রচারণায় সর্বোচ্চ ৪২ হাজার ফটোকার্ড জেনারেট হয়েছিল বলে জানান তারা।
তবে এই বিপুল পরিমাণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য এশিয়া পোস্টকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়নি বলে জানিয়েছেন এশিয়া পোস্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এশিয়া পোস্টের সম্পাদক ও প্রকাশক পলাশ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার জন্য আমাদের কোনো বাজেট ছিল না। আমরা এক ডলারও বুস্ট করিনি। শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি ছিল আমাদের টিমের সার্বিক পরিশ্রমের ফসল। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পরিচিত শুভাকাঙ্ক্ষীরা সহযোগিতা করেছেন। আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’
উদ্বোধন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রায় চার দিন মানুষ শুভেচ্ছা জানিয়ে কার্ড পোস্ট করতে থাকেন। ১০ মে থেকে ১৩ মে ব্যাপকভাবে কার্ড প্রচারণা চলে। তবে গতকাল পর্যন্ত কিছু কিছু কার্ড জেনারেট হতে দেখা গেছে। এশিয়া পোস্টকে কার্ড পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানান সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মধ্যে ছিলেন সাধারণ মানুষ, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিনেতা-অভিনেত্রী, ইনফ্লুয়েন্সার, প্রবাসী, চিকিৎসক, কবি, সাহিত্যিক, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবী, বেসরকারি চাকরিজীবী ও সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষ।
বাংলাদেশের বাইরে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, জাপান, ভারত, নেপাল, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, তুরস্ক, মিসর, সুইডেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা এশিয়া পোস্টকে শুভেচ্ছা জানান।
এদিকে এশিয়া পোস্টের এমন অভূতপূর্ব সাড়াকে দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন ব্র্যান্ড প্র্যাক্টিশনাররা। তারা মনে করছেন, ফটোকার্ডের ইতিবাচক ব্যবহারের দারুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এশিয়া পোস্ট। এ বিষয়ে ব্র্যান্ড অনুশীলন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড প্র্যাক্টিশনার্স বাংলাদেশের চিফ গ্রোথ অফিসার সানজিদা রাফিয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘নতুন হিসেবে ‘ট্র্যাকশন’ (পরিচিতি ও আগ্রহ অর্জন) পেতে ফটোকার্ডকে ব্র্যান্ডিং টুল হিসেবে সফলভাবে ব্যবহার করেছে এশিয়া পোস্ট। কয়েক বছর আগে আরেকটি গণমাধ্যমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফটোকার্ড ক্যাম্পেইন সাড়া ফেলেছিল। আমরা দেখতে পেয়েছি, এই ক্যাম্পেইন দিয়ে এশিয়া পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমি বলব, ‘আর্নড মিডিয়া’ হিসেবে এটি বেশ সফল একটি ক্যাম্পেইন। এশিয়া পোস্টের জন্য শুভকামনা রইল।’
অন্যদিকে পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া তৈরি এবং তাদের মনোযোগ আকর্ষণে ফটোকার্ডের সফল ও ইতিবাচক প্রয়োগ হয়েছে বলেও মনে করেন যোগাযোগ খাতের পেশাজীবীরা। করপোরেট কমিউনিকেশন্স খাতে অভিজ্ঞ ও দারাজ বাংলাদেশের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার হাসিনুল কুদ্দুস রুশো এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ফটোকার্ডের অনেক অপব্যবহার দেখেছি। অপতথ্য বা ট্রলের জন্য ফটোকার্ড বেশ পরিচিত। তবে এই একই জিনিসকে যে সৃজনশীল এবং ইতিবাচক উদ্দেশ্যে সফলভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটা এশিয়া পোস্টে আমরা দেখেছি। একটি প্রতিষ্ঠানের অর্গানিক মার্কেটিং এবং কমিউনিকেশন্সে সফল উপকরণ হিসেবে ফটোকার্ডের দারুণ প্রয়োগ করেছে এশিয়া পোস্ট। ফটোকার্ডের ইতিবাচক ব্যবহারের একটি চমৎকার উদাহরণ তৈরি করেছে এশিয়া পোস্ট।’
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল মার্কেটিং ও সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের প্রধান আমিন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা যারা ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছে ব্র্যান্ডকে পৌঁছানো। এজন্য মাঝে মাঝে মোটা অঙ্কের বুস্টিংও করতে হয়। তবে মার্কেটিংয়ের জগতে ওই মার্কেটিং পদ্ধতিই সেরা যেটি বিনা খরচে বা খুবই নামমাত্র খরচে করা হয়। এটাকে ‘অর্গানিক মার্কেটিং’ বা ‘আর্নড মিডিয়া পিআর’ বলা হয়ে থাকে। এশিয়া পোস্ট অর্গানিক উপায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছে নিজেদের ব্র্যান্ডকে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।’
এ বিষয়ে এসিআই কনজিউমার ব্র্যান্ডসের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের উদ্বোধনী আয়োজন দেখেছি। অনেকেই অনেক ভালো করেছে। তবে এশিয়া পোস্টকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ব্যাপক শুভেচ্ছা কার্ড প্রচারণা, এমনটা আগে কখনো দেখিনি। এটি বাংলাদেশে একটি দৃষ্টান্ত।’