Advertisement

ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে চালু হলো ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে চালু হলো ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন
ঢাকা–গোপালগঞ্জ–ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনের উদ্বোধন করছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে চালু হয়েছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামের একজোড়া নতুন ট্রেন। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে (কমলাপুর) সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই ট্রেন উদ্বোধন করেন।

Advertisement

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপ্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান সরকার নিরাপদ, সাশ্রয়ী, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব রেলসেবা সম্প্রসারণকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মধ্যে কার্যকর কমিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্তঃনগর রেলসেবা সম্প্রসারণেও নেওয়া হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ। পর্যাপ্ত যাত্রীবাহী কোচ ও লোকোমোটিভের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যেই ঢাকা–গোপালগঞ্জ–ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামে এক জোড়া নতুন ট্রেন চালু করা হলো।

এই ট্রেনের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ ও এর মধ্যবর্তী এলাকার চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীরা প্রতিদিন স্বল্প খরচে ও নির্ভরযোগ্যভাবে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন এবং কর্মদিবস শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যেতে পারবেন। ফলে রাজধানীমুখী স্থায়ী আবাসন গড়ার প্রবণতা হ্রাস পাবে, যা ঢাকার আবাসন, যানজট ও নগরসেবার ওপর বিদ্যমান চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে গোপালগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকার শাকসবজি, কৃষিপণ্য, মাছ এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অন্যান্য পণ্য দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে ঢাকার বাজারে পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং উৎপাদক ও ভোক্তা—উভয় পক্ষই উপকৃত হবেন।

১৩৫ নম্বর অভিযাত্রী কমিউটার ট্রেনটি ঢাকা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং সেখানে পৌঁছাবে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায়। অন্যদিকে ১৩৬ নম্বর অভিযাত্রী কমিউটার গোপালগঞ্জ থেকে সকাল সোয়া ৭টায় ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে। ট্রেনটির মোট কোচসংখ্যা ৮টি এবং আসনসংখ্যা ৬৩০টি। ঢাকা-গোপালগঞ্জ ১৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রুটে মোট ৭টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি থাকবে।

ঢাকা ও গোপালগঞ্জের মধ্যকার যাত্রাবিরতি স্টেশনগুলো হলো—কেরাণীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা, মহেশপুর ও কাশিয়ানী জংশন। প্রতি শনিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।

ট্রেনটির প্রথম যাত্রায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী যাত্রীদের সাথে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন।