লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের পৃথক একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব অস্ত্রের সন্ধান দিতে সহায়তা করলে তথ্যদাতাকে ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত তিন মাসের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চাহিদার বিষয় তুলে ধরেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পুলিশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার। পাশাপাশি পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ সময় তথ্য প্রদানকারীদের সুরক্ষার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্রের বাতিলকৃত লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে ইতোমধ্যেই অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী জানান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপারগণের (এসপি) বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।



