logo

‘জ্বালানির জন্য প্রয়োজনে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে’

‘জ্বালানির জন্য প্রয়োজনে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে’

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

রোববার (১৫ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, জ্বালানির নতুন উৎসের খোঁজে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। এ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে কোনো মূল্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন খাত থেকে কাটছাঁট করে নিজস্ব উৎস থেকে অর্থ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডে কোনো রাজনীতিকরণ করা হয়নি। কৃষক কার্ড প্রদানেও রাজনীতিকরণ করা হবে না। যিনি যোগ্য, তিনিই কৃষক কার্ড পাবেন। যদিও আগে এসব ক্ষেত্রে রাজনীতিকরণ করা হতো।

এদিকে রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না। সবাই চাহিদামতো তেল কিনতে পারবেন। জ্বালানির সংকট যাতে না হয়, তাই আমদানি বাড়াতে বন্ধুরাষ্ট্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমায় দেশেও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। আতঙ্কে স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ হারে জ্বালানি তেল কেনা শুরু হয়। এটি ঠেকাতে তেল কেনায় সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ কমানো হয়। সেখানে দীর্ঘ লাইন কমছে না। তাই ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি ঠেকাতে ও সেচের ডিজেলের চাহিদা পূরণে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা তুলে নিল সরকার।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র বলছে, এ মাসে জ্বালানি তেল নিয়ে মোট ১৮টি জাহাজ আসার কথা। ১৪ মার্চ পর্যন্ত ৬টি জাহাজ এসেছে। ২৭ মার্চ পর্যন্ত আরও ৬টি জাহাজ আসার সময়সূচি পাওয়া গেছে। এর বাইরে ৬টি জাহাজের এখন পর্যন্ত সময়সূচি পাওয়া যায়নি। প্রতিটি জাহাজে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টন তেল থাকে। 

বিপিসি সূত্রে আরও জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় দুই লাখ টন ডিজেল মজুত আছে। এর বাইরে আরও প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল আছে, যা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে নতুন জাহাজ যুক্ত হতে থাকবে। অকটেন ও পেট্রলের মজুত আছে ১৬ হাজার টন করে। দেশীয় উৎস থেকে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টন করে পেট্রল ও অকটেন যুক্ত হচ্ছে। দিনে পেট্রল ও অকটেনের চাহিদা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টন। সরবরাহ বাড়ানো হলেও মার্চে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট হবে না। তবে কেউ চাহিদার চেয়ে বাড়তি তেল কিনে মজুত করতে থাকলে চাপ তৈরি হতে পারে।