মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আদালতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের (৭৭) বিচার সেনা আদালতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের বিচার সামরিক আদালতে সম্পন্ন হয়েছিল এবং সে সময় মামলার বিভিন্ন বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ (ফাইন্ডিংস) রয়েছে। মেজর (অব.) মোজাফফর দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন এবং ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে অবস্থান করছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে সম্ভবত তার বিচার নিষ্পন্ন হবে। একই মামলায় আগে যাদের দণ্ডিত ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তাদের রায়ের আলোকে তার বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ রয়েছে কি না, সেটিও সামরিক আদালত বিবেচনা করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সেনা সদস্যদের ক্ষেত্রে সামরিক আইন প্রযোজ্য। একই মামলার সহআসামিদের বিচার যেহেতু সেনা আইনে হয়েছে, তাই তার বিচারও একই আইনি কাঠামোর আওতায় হবে। কোনো ব্যক্তিকে একই ঘটনায় পৃথক দুটি আইনের অধীনে আলাদাভাবে বিচার করা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং ল্যান্ডমাইন শনাক্তকরণ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ল্যান্ডমাইন শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বিজিবিকে সরবরাহ করা হয়েছে এবং সদস্যরা সেগুলো ব্যবহার করছেন, যাতে কোনো মাইন দুর্ঘটনা না ঘটে।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে মিয়ানমার সরকারের বাহিনী ও আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পড়ছে। এ ছাড়া মাদক চোরাচালান, নিরাপত্তাহীনতা এবং সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তে ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একটি প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ ছাড়া ভারত থেকে কথিত পুশইন ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কাউকে অবৈধভাবে পুশইন করতে দেয়নি। বিজিবি ও সীমান্তবর্তী জনগণের সহযোগিতায় এ ধরনের প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটলেও তা সংখ্যায় খুবই কম এবং আইন অনুযায়ী সেসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যদি কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য তালিকা দিতে হবে। জাতীয় পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এর বাইরে কাউকে গ্রহণ করা হবে না।
বিজিবির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ পুরস্কারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাহিনীটির সদস্যদের সাহসিকতা ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতি বছর পদক প্রদান করা হয়। তবে সাম্প্রতিক পুশ-ইন ইস্যুতে বিজিবির বীরত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য পদকের পাশাপাশি বিশেষ সনদ বা অন্যান্য স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে বিজিবির মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাহিনীর সদস্যদের আরও উৎসাহিত করবে।
