মায়ের প্রতি অবহেলা, যুগ্ম সচিব ছেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরে একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগম (৭৫) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার সন্তানদের অবহেলার বিষয়টি গণমাধ্যমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সন্তানদের নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদে জানা গেছে, নুরজাহান বেগমের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর এবার ওই নারীর বড় ছেলে যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তার (যুগ্ম সচিব) বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নূর জাহান বেগমের ঘরসহ পুরো ফ্ল্যাটের অবস্থা অত্যন্ত নোংরা, অস্বাস্থ্যকর। মরদেহের ফুটেজেও নূর জাহান বেগমের ডান চোখে সাদা ফাঙ্গাসের মতো পড়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলছেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাতে পোকার অস্তিত্ব দেখেছেন।
ঘটনার পর ওই ভবনের আশপাশের প্রতিবেশীরা বলছেন, ঘরের ভেতরে একজন প্রবীণ নারী যেভাবে মারা গেলেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এমন মৃত্যুকে অমানবিক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের বিধিমালা করা হয় ২০২৩ সালে। আইনে বলা আছে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে সন্তানরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন। পিতা ও মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবেন।
আর এই আইন না মানলে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন বা অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
