logo

কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মদিন আজ

কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মদিন আজ

‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায়, হয়তো মানুষ নয়- হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে’—অনবদ্য এই পঙক্তি কবি জীবনানন্দ দাশের। রূপসী বাংলাখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মদিন আজ। 

তিনি ১৮৯৯ সালের এই দিনে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তার আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। তার বাবা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মা কুসুমকুমারী দাশ সাংসারিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে কবিতা লিখতেন। মায়ের কাছ থেকেই সাহিত্যচর্চা ও কবিতা লেখার প্রেরণা পান জীবনানন্দ। 

দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জীবনানন্দ ছিলেন সবার বড়। তার ডাক নাম ছিল মিলু। ১৯০৮ সালের জানুয়ারিতে আট বছরের মিলুকে ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। ১৯১৯ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স এবং এর দুই বছর পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও তা শেষ করেননি। 

জীবনানন্দ দাশের ৫৬ বছরের জীবনটি কেটেছে চরম দারিদ্র্য ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। পেশা মূলত শিক্ষকতা হলেও কর্মজীবনে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে কোথাও থিতু হতে পারেননি। তিনি অধ্যাপনা করেছেন বাংলাদেশ এবং ভারতের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। 

ছাত্রাবস্থায় তার প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রক্ষ্মবাদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’ প্রকাশ হয় ১৯২৭ সালে। তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা। 

১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতার বালিগঞ্জে এক ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত কবি জীবনানন্দ দাশ। এর ছয় দিন পর স্থানীয় শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে পরলোকগমন করেন তিনি।