logo

সৌদিতে ফ্লাইট বিপর্যয়, বিমান সংস্থাগুলোকে বেবিচকের ৭ নির্দেশনা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
সৌদিতে ফ্লাইট বিপর্যয়, বিমান সংস্থাগুলোকে বেবিচকের ৭ নির্দেশনা
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

নির্দেশনায় ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাত্রীদের জানানো, পুনরায় টিকিট বুকিং ও অর্থ ফেরতের বিষয়ে সহায়তা, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) জারি করা এক নির্দেশনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে এসব ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরবর্তীতে বেবিচক সূত্রে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিরাজমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবগামী সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনাকারী সব এয়ারলাইনসকে যাত্রীসেবা ও কার্যক্রম সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

যাত্রীদের আগাম তথ্য দেওয়ার নির্দেশ

বেবিচক বলেছে, ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব কিংবা সময়সূচিতে পরিবর্তনের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের দ্রুত জানাতে হবে। এ জন্য এসএমএস, ফোনকল, ইমেইল, এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সহজলভ্য সব যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হবে।

পাশাপাশি ফ্লাইটের সংশোধিত সময়সূচি, পুনরায় টিকিট বুকিং, অর্থ ফেরত এবং প্রযোজ্য অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে যাত্রীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে। ফ্লাইটের অবস্থা নিশ্চিত না করে যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসতে বলা যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিসার মেয়াদ বাড়ানো ও আটকে পড়া যাত্রীদের সেবা

সৌদি আরবে অবস্থান বা প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো কিংবা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসকে যাত্রীদের সৌদি কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া পরিস্থিতির কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে আটকে পড়া বা ফ্লাইটের বিঘ্ন সম্পর্কে অবগত না থাকা যাত্রীদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল, হালকা খাবার, প্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য মৌলিক সেবা দিতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীর প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

এয়ারলাইনসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ

নির্দেশনায় প্রতিটি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসকে পর্যাপ্ত জনবলসহ একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ফোকাল পয়েন্ট অবিলম্বে নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। ওই কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা দ্রুত শাহজালাল বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগকে জানাতে হবে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের আওতায় থেকে যাত্রীদের সহায়তা, ফ্লাইটের হালনাগাদ তথ্য এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যক্রম সমন্বয় করতে হবে।

এ ছাড়া কোনো যাত্রীকে অসহায় অবস্থায় ফেলে না রাখা, তাদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করা এবং সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর করে শাহজালাল বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনার অনুলিপি বেবিচকের চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এবং এয়ার অ্যারাবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা। এতে বগুড়ার শাহজানপুরের মো. শাহেদ আহমেদ ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাসরুল্লাহ বদরপুরী নামের দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। আরও ২৭ বাংলাদেশিসহ আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।