‘এটা একটা ডেঞ্জারাস এবং ফেইল্ড লেফটিস্ট আইডিয়া’

দেশের অর্থনীতিতে রাজস্ব বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্পদের ওপর কর আরোপের যে পরিকল্পনা করছে, সেটাকে ডেঞ্জারাস এবং ফেইল্ড লেফটিস্ট আইডিয়া হিসাবে উল্লেখ্য করেছেন বাংলাদেশ-আমেরিকান ভূ-রাজনৈতিক কলামিস্ট, বিশ্লেষক এবং শিক্ষাবিদ শাফকাত রাব্বী অনীক।
শুক্রবার (১৫ মে) নিজের ভেরিফয়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন তিনি।
পোস্টে শাফকাত রাব্বী অনীক লেখেন, সম্পদের ওপরে ট্যাক্স বসানোর কথা বলছে বাংলাদেশ সরকার এবং এনবিআর। এটা একটা ডেঞ্জারাস এবং ফেইল্ড লেফটিস্ট আইডিয়া, যেটা বিনিয়োগকারীদের যে কোনো দেশ থেকে সরিয়ে দেয়।
ট্যাক্স বসাতে হয় কামাইয়ের ওপর, সম্পদের ওপরে না উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ধরেন আপনি একটা কোম্পানিতে ইনভেস্ট করলেন। ইনভেস্ট করলেন ১০ লাখ টাকা এবং আপনার শেয়ার ৫০ শতাংশ (মানে ৫ লাখ টাকার শেয়ার)। যদি আপনার কোম্পানি খুব ভালো করে, তাহলে আপনার শেয়ারের মূল্য বেড়ে কয়েক গুণ হতে পারে। ধরেন তিন গুন বেড়ে ১৫ লাখ টাকা হলো। কিন্তু যতো দিন আপনি সেই শেয়ার বিক্রি করছেন না, ততদিন আপনার কাছে জাস্ট কিছু কাগজ আছে সেই শেয়ারের, কিন্তু কোনো ‘কামাই’ বা নগদ টাকা নেই। সম্পদের ওপর ট্যাক্স বসলে আপনার সেই কাগুজে শেয়ার আপনার সম্পদ হিসাবে ধরা হবে, এবং তার ওপর ট্যাক্স দেওয়া লাগবে। মানে হচ্ছে— হয় আপনাকে জোর করে শেয়ার বিক্রি করে ট্যাক্স দিতে হবে কিংবা অন্য জায়গা থেকে টাকা এনে ট্যাক্স দিতে হবে।
তিনি আরও লেখেন, এই একই উদাহরণ হতে পারে জমির ক্ষেত্রে। ধরেন আপনার বাবা আপনাকে একটা জমি দিয়ে গেছে, যেটার অনেক দাম, কিন্তু আপনি ধরে বসে আছেন। বিক্রি না করা পর্যন্ত এটা আপনার সম্পদ, কামাই না। এখন যদি সম্পদের ওপর ট্যাক্স দিতে হয়, আপনার এটার ওপর বাড়তি ট্যাক্স দেওয়া লাগতে পারে, খাজনা দেবার পরেও। বিক্রি না করে আপনি কিভাবে বাড়তি ট্যাক্স দেবেন? অন্য জায়গা থেকে টাকা এনে ট্যাক্স দিয়ে দিয়ে বাবার দেওয়া জমি পুষবেন?
পোস্টে শাফকাত রাব্বী বলেন, ব্যাংকের টাকার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরও বেশি মারাত্মক। আপনি কষ্ট করে আগে অলরেডি ট্যাক্স দিয়ে বাকি টাকা জমিয়েছেন। এখন সেই জমানো টাকার ওপর আবার ট্যাক্স দিতে হতে পারে সম্পদ ট্যাক্স হিসেবে গণ্য হলে। এ কারণে ট্যাক্স জিনিসটা সব সময় কামাই বা ইনকামের এর ওপর রাখতে হয়। যখন কামাই হবে, ইনকাম হবে, বিক্রি হবে, অর্থাৎ যখন টাকা লেনদেন হবে, তখন ট্যাক্স হবে। যখন লেনদেন নাই, ট্যাক্সও নাই।
তিনি লেখেন, সম্পদ ট্যাক্স কীভাবে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির হোমাসা করবে। বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ ফি দিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে অবৈধপথে বিদেশে টাকা পাঠানো যায়। তারেক রহমানের সঙ্গে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনায় এই স্ট্যাটিস্টিক্স আমি নিজে উনাকে দিয়েছি। উনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, কত পার্সেন্ট?
তিনি আরও লেখেন, সম্পদের ওপর ট্যাক্স বসলে মানুষ জাস্ট এই ৩ থেকে ৪ শতাংশ ফি দিয়ে টাকা হুন্ডি করে বিদেশ পাঠিয়ে দেবে। বিশেষ করে বড়লোকরা। নিশ্চিত থাকতে পারেন। সম্পদ ট্যাক্স বসানো হলে দেশে টাকা জমানোর এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের কোনো কারণই থাকবে না। অর্থাৎ, দেশে অনেক মানুষ সম্পদ একিউমুলেট করবেই না। এতে উপকার হবে দুবাই ও সিঙ্গাপুরের; বাংলাদেশের না।
শাফকাত রাব্বী লেখেন, আমি একাধিক লেখায় বলেছি বাংলাদেশের অবশ্যই ট্যাক্স কালেকশন বাড়াতে হবে। এবং সেটার সব চাইতে ভালো উপায় হচ্ছে দেশের সব মানুষের কাছ থেকেই অল্প অল্প করে ট্যাক্স নেওয়ার অভ্যাস করাতে হবে এবং ট্যাক্সের বিনিময়ে সার্ভিস দিতে হবে মানুষকে। যার বেতন অনেক কম, তার কাছ থেকে সহনীয় পর্যায়ে ৫০ টাকা করে হলেও ইনকাম ট্যাক্স নিতে হবে, এবং তার বিনিময়ে তাকে রাষ্ট্র থেকে কিছু নিশ্চিত সার্ভিস এবং নিরাপত্তা দিতে হবে।
সবশেষ তিনি লেখেন, শুধুমাত্র বড়লোকই ট্যাক্স দেবে, ইনকাম থেকে এবং বড়লোকের সম্পদ থেকে, এইটা একটা ফেইলড লেফটিস্ট আইডিয়া। এই আইডিয়ার থেকে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ ধ্বংস করে এমন আর কোনো আইডিয়া নাই।