logo
Advertisement

এক সপ্তাহে নিরাপদ খাদ্য আইনে ২৮ লাখ টাকা জরিমানা, মামলা ২০

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এক সপ্তাহে নিরাপদ খাদ্য আইনে ২৮ লাখ টাকা জরিমানা, মামলা ২০
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের লোগো। ছবি: ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ লঙ্ঘনের দায়ে এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সময়ে দায়ের করা হয়েছে ২০টি মামলা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল হাসনাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান, মোবাইল কোর্ট এবং সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এসব জরিমানা ও মামলা করা হয়।

রাজধানীর ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক প্রদর্শনে ব্যর্থতার মতো অপরাধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও নীলফামারীতে ১৪টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে মোট ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৫টি মামলা করা হয়েছে।

অভিযানে পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি, পোড়াতেল ব্যবহার, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার উপস্থিতি, অনুমোদনহীন ঘি ব্যবহার, বিরিয়ানি তৈরিতে কেওড়াজল ব্যবহার, পণ্যে লেবেল না থাকা এবং নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।

এদিকে, ১২ সেপ্টেম্বর পাবনা ও সিলেটে পৃথকভাবে সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। পাবনায় খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সিলেটের খাদিমনগর বিসিক শিল্পনগরীর দুটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে একটি প্রতিষ্ঠানকে সন্তোষজনক পাওয়া গেলেও অন্য প্রতিষ্ঠানকে খাদ্য সংরক্ষণ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সাত দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গত এক সপ্তাহে সারাদেশে ১৯৬টি খাদ্য স্থাপনায় মনিটরিং করা হয়েছে। বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানে এসব তদারকি করা হয়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আইন প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট, গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী, উৎপাদক, ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও ব্যাপক ও কার্যকরভাবে অব্যাহত থাকবে।