রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে জীবন ‘তছনছ’, চাকরি-রিকশা চালিয়ে চলছে মিজানুরের সংসার

স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ভালোই চলছিল মিজানুর রহমানের সংসার। কিন্তু চব্বিশের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে তার জীবনটা রীতিমতো ‘তছনছ’ হয়ে যায়। বহুমুখী দায়িত্ব কাঁধে থাকায় কোনো উপায় না পেয়ে ‘এক আকাশ মাথায়’ নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন জীবনযুদ্ধ। দিনে চাকরি, রাতে বা সুযোগ পেলেই বেড়িয়ে পড়েন রিকশা নিয়ে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রতিদিনই ছুটছেন এক থেকে আরেক কাজে।
দীর্ঘদিন গাজী টায়ার কোম্পানিতে চাকরি করেছেন মিজানুর। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি। এরপর প্রায় এক বছর বেকার অবস্থায় কাটে জীবন। সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়ালেখা— সবকিছু মিলিয়ে কঠিন সময় পার করেন। অনেক চেষ্টায় একটি চাকরি জোটে। কিন্তু সেই বেতন দিয়ে সংসারের প্রয়োজন ঠিকমতো মেটাতে না পেরে চাকরির ফাঁকে যখনই সময় পান, তখনই রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।
মিজানুরের এ সংগ্রামের পেছনে সবচেয়ে বড় প্রেরণা তার পরিবার। নিজের আয়ের ওপর নির্ভর করে সন্তানদের পড়ালেখা চালিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তার কাছে রিকশা চালানো কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং সৎভাবে উপার্জন করাটাই তার গর্ব।
এ জীবনযুদ্ধ প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি রিকশা চালাই, এটা আমার গর্ব। আত্মীয়স্বজন কে কী ভাবল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার সন্তানদের পড়ালেখা করাতে হবে, সংসার চালাতে হবে। সৎভাবে উপার্জন করে বেঁচে থাকাই আমার কাছে বড় কথা।’
তিনি জানান, জীবন তাকে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করেছে। চাকরি হারিয়েছেন, দীর্ঘদিন বেকার থেকেছেন, আবার নতুন করে দাঁড়িয়েছেন। এখন এক হাতে চাকরি আর অন্য হাতে রিকশার হ্যান্ডেল ধরে এগিয়ে চলেছেন তিনি।
তার গল্প শুধু একজন রিকশাচালকের গল্প নয়; এটি একজন বাবার দায়িত্ববোধ, একজন শ্রমজীবী মানুষের আত্মসম্মান এবং পরিবারের জন্য প্রতিনিয়ত লড়ে যাওয়ার এক বাস্তব চিত্র।



