বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত/কিশোর চালককে বাঁচাতে ফাঁসানো হলো আরেকজনকে

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা এক নির্মাণ শ্রমিককে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহত মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদির ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তবে গাড়িচাপা দেওয়া কিশোরকে রহস্যজনকভাবে মামলা থেকে বাদ দিয়ে আসামি করা হয়েছে পাশে বসে থাকা আকাশ মারক-এর (৪৪) বিরুদ্ধে।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, নিলফামারির ডোমার উপজেলার হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এরশাদ আলীর ছোট ছেলে মেহেদী হাসান মিম (২৪) ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করত। বারিধারার এক নম্বর সড়কে ১৩ নম্বর বাড়ির সামনে ফুটপাতে বসে থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় তাকে চাপা দেয় এ ঢাকা মেট্রো গ ১৮৬৬৭৬ নম্বরের ব্যক্তিগত গাড়ি। গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদীকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। আকাশ মারক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে নির্মাণ শ্রমিক মেহেদীকে চাপা দেওয়ায় তার মৃত্যু হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেন মামলার বাদী নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদির।
এ দিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, কালো রঙের একটি প্রাইভেট কার দ্রুত গতিতে এসে ফুটপাতে বিশ্রামরত মেহেদী হাসানকে চাপা দেয়। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীর রক্তাক্ত দেহ বের করে আনেন। ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর প্রাইভেট কারটি থেকে দুজন ব্যক্তি নেমে আসেন। গাড়ির ডান পাশ থেকে অর্থাৎ চালকের আসন থেকে নেমে আসে কালো টি–শার্ট পরা এক কিশোর। অপর পাশ থেকে শার্ট পরা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তিকে নেমে আসতে দেখা যায়। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা দুজনই প্রাইভেট কারের পাশে যান। পরে ওই কিশোরকে সেখান থেকে এক দিকে সরে যেতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় গুলশান থানার ওসি তদন্ত ইসমাইল হোসেন খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহতের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদির বাদী হয়ে গাড়িতে থাকা আকাশ মারক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। কিন্তু গাড়ির ভিতরে থাকায় আজান শরীফ নামে এক কিশোরকেও আমরা হেফাজতে নিয়েছি। আগামীকাল তাকেও আদালতে সোপর্দ করা হবে।
গাড়ি চালক ওই কিশোর হলে তাকে মামলার এজহার থেকে বাদ দিয়ে কেন পাশের সীটে থাকা আকাশের বিরুদ্ধে মামলা করা হলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার বাদী মামলা করেছেন। আমরা তদন্ত করে দেখব কে আসলে দোষী।
এ বিষয়ে জানার জন্য মামলার বাদী মোক্তাদির ইসলামকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
গাড়ির মালিকের পরিচয়
নির্মাণ শ্রমিক মেহেদীকে চাপা দেওয়া গাড়ির ভিতর থেকে পাওয়া কাগজে দেখা যায়, ঢাকা মেট্রো গ ১৮৬৬৭৬ গাড়িটি নিবন্ধন করা মিসেস সিগমা আব্বাস নামে একজনের নামে। ওই গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে আব্বাস শরীফ নামে একজনের। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী গাড়িতে থাকা কিশোর আজান শরীফের পিতা আব্বাস শরীফ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন কর্মকর্তা। যদিও বিমানের সরকারি ওয়েবসাইটে ওই নামে কোনো কর্মকর্তার খোঁজ মেলেনি।