জাতিসংঘ কি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে পারে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ দাবি নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন তারা। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান এবং তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও জলকামান নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৬০ জন আহত হন।
এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক জোবায়ের যমুনার সামনে দাবি করে বলেন, হাদি হত্যার বিচার করতে হবে। এই মামলার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে হতে হবে। আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই। প্রধান উপদেষ্টা শুধু বলুক যে হত্যা মামলার তদন্তটি জাতিসংঘের অধীনে হবে। এতেই আমরা এখান থেকে চলে যাব।
এদিকে ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের জন্য সরকার জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।’
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জাতিসংঘ কি আদৌ কোনো হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে পারে? এর আগে সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যক্তিদের হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত সম্পন্ন করেছে? তদন্তগুলোর ফলাফল কী হয়েছিল? এসব প্রশ্ন ও তার উত্তর জানাবে এশিয়া পোস্ট।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতিসংঘের মূল ভূমিকা হলো নিরপেক্ষ তথ্য অনুসন্ধান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অপরাধ বিচারব্যবস্থায় কারিগরি সহায়তা দেওয়া। জাতিসংঘ নিজে কোনো ফৌজদারি আদালতের মতো সরাসরি শাস্তি দিতে পারে না। তবে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মহলে বিচার নিশ্চিত করতে বা জাতীয় বিচারপ্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের প্রধান করণীয় এবং কাজের ধরন নিচে আলোচনা করা হলো—
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন বা তথ্যানুসন্ধান দল গঠন
জাতিসংঘ সাধারণত বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড বা গণমানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন’ পাঠায়। তাদের উদ্দেশ্য নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহ করা, কী ঘটেছিল তা উদঘাটন করা এবং কারা এর জন্য দায়ী হতে পারে, তা চিহ্নিত করা।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং তদন্ত পরিচালনা করেছে। এই তদন্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের প্রমাণ খোঁজা হয়।
তদন্ত কমিশন গঠন
নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ অপরাধ বা অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতির জন্য জাতিসংঘ ‘তদন্ত কমিশন’ গঠন করে।
এই কমিশনগুলো ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের চেয়েও গভীর তদন্ত করে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করে যাতে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।
লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যার ঘটনা তদন্তে জাতিসংঘ বিশেষ তদন্ত কমিশন পাঠিয়েছিল, যা পরবর্তীতে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনে সহায়তা করে।
অপরাধের বিচারে কারিগরি সহায়তা
সরাসরি তদন্ত ছাড়াও জাতিসংঘ (বিশেষ করে ইউএনওডিসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ তদন্তে সহায়তা করে। এ জন্য স্থানীয় পুলিশ বা তদন্ত কর্মকর্তাদের আধুনিক তদন্ত পদ্ধতি ও ফরেনসিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সংস্থাটি ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ফৌজদারি আইন সংস্কারে পরামর্শ দেয়।
দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
জাতিসংঘের নিজস্ব কোনো ফৌজদারি এখতিয়ার বা পুলিশ বাহিনী নেই, যা দিয়ে তারা কাউকে গ্রেপ্তার বা সাজা দিতে পারে। তবে তাদের করণীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—
প্রতিবেদন দাখিল : তদন্তের ফলাফল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বা মানবাধিকার কাউন্সিলে পেশ করা।
সুপারিশ প্রদান : দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে দীর্ঘমেয়াদি কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে সুপারিশ করা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) : অত্যন্ত গুরুতর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদ কোনো পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) পাঠাতে পারে, যেখানে অপরাধীদের ব্যক্তিগতভাবে বিচারের সুযোগ থাকে।
এর আগে জাতিসংঘ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো, লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি, সৌদি সাংবাদিক ও কলামিস্ট জামাল খাশোগিসহ বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করেছে।
বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ড
২০০৭ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের পর জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান সরকারের অনুরোধে গঠিত জাতিসংঘের একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন এই হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করে ২০১০ সালে একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন জমা দেয়।
জাতিসংঘের তদন্ত এবং এর প্রতিবেদনের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো—
২০০৯ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন চিলির রাষ্ট্রদূত হেরাল্ডো মুনোজের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করেন। এই কমিশন ২০০৯ সালের জুলাই থেকে তদন্ত শুরু করে এবং প্রায় ২৫০ জনের সাক্ষাৎকার নেয়।
হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধযোগ্য ছিল : ২০১০ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতিসংঘ উল্লেখ করে যে, বেনজির ভুট্টোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব ছিল তৎকালীন ফেডারেল সরকার এবং পাঞ্জাব সরকারের। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলে এই হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।
পারভেজ মোশাররফ সরকারের ব্যর্থতা : প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সরকার বেনজির ভুট্টোর জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তাকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তদন্তে বাধা ও আলামত নষ্ট : রাওয়ালপিন্ডি পুলিশ হত্যাকাণ্ডের পরপরই হোস পাইপ দিয়ে ঘটনাস্থল ধুয়ে ফেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক আলামত নষ্ট করে দেয়। জাতিসংঘ একে তদন্তে ‘ইচ্ছাকৃত বাধা’ এবং তথ্য গোপন বা ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা : প্রতিবেদনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর (বিশেষ করে আইএসআই) সমালোচনা করা হয়। বলা হয়, তারা তদন্তে অসহযোগিতা করেছে এবং নিজস্ব তথ্যগুলো পুলিশের সঙ্গে শেয়ার করেনি।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং বনাম ফৌজদারি তদন্ত : জাতিসংঘের এই তদন্তের মূল লক্ষ্য ছিল হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক ‘তথ্য ও পরিস্থিতি’ উদঘাটন করা, অপরাধীদের বিচার করা নয়। জাতিসংঘ স্পষ্ট জানিয়েছিল যে খুনিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দায়িত্ব পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনটি তৎকালীন পাকিস্তানে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আদালতে মামলার গতি-প্রকৃতি নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল।
রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ড
২০০৫ সালে লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ডের পর জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত এবং ঐতিহাসিক। এই প্রথম কোনো একক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য জাতিসংঘ একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।
লেবানন সরকারের অনুরোধে এবং নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপে জাতিসংঘের গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো—
তদন্ত কমিশন (ইউএনআইআইআইসি) গঠন : হত্যাকাণ্ডের পরপরই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ‘রেজোলিউশন ১৫৯৫’ এর মাধ্যমে ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারন্যাশনাল ইনডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেশন কমিশন (ইউএনআইআইআইসি) গঠন করে। জার্মান প্রসিকিউটর ডেটলেভ মেহলিসের নেতৃত্বে এই কমিশন তদন্ত শুরু করে এবং তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে সিরীয় ও লেবানিজ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়।
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা : ২০০৭ সালে নিরাপত্তা পরিষদ ‘রেজল্যুউশন ১৭৫৭’-এর মাধ্যমে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ফর লেবানন গঠন করে । নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত এই আদালতটি ছিল একটি ‘হাইব্রিড’ আদালত, যা লেবানিজ ফৌজদারি আইন এবং আন্তর্জাতিক বিচারিক মানদণ্ডের সমন্বয়ে পরিচালিত হতো।
হিজবুল্লাহ সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা : দীর্ঘ তদন্তের পর ট্রাইব্যুনাল হিজবুল্লাহর চারজন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। ২০২০ সালে দেওয়া চূড়ান্ত রায়ে আদালত সেলিম আইয়াস নামক হিজবুল্লাহর এক সদস্যকে হারিরি হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব বা সিরীয় সরকারের সরাসরি জড়িত থাকার কোনো অকাট্য প্রমাণ ট্রাইব্যুনাল খুঁজে পায়নি।
অনুপস্থিতিতে বিচার : অভিযুক্তরা ধরা না পড়ায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। হিজবুল্লাহ এই আদালতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং অভিযুক্তদের হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে।
জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড
২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ একটি স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করে। এই তদন্তের নেতৃত্বে ছিলেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
২০১৯ সালের জুনে প্রকাশিত ১০১ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে জাতিসংঘের প্রধান পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশগুলো ছিল নিম্নরূপ—
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড : তদন্তে খাশোগি হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ ঘটনার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করা হয়েছিল।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা : প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে এ হত্যাকাণ্ডটি সৌদি আরবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশ ও তদারকিতে সম্পন্ন হয়েছে।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতা : তদন্তকারী দল সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ পাওয়ার কথা জানায় এবং তার ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা খতিয়ে দেখতে আরও তদন্তের সুপারিশ করে।
তদন্তে বাধা : প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব তুরস্কের তদন্তকারী দলকে কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে প্রবেশে দেরি করিয়ে এবং আলামত পরিষ্কার করে তদন্তপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন : এই হত্যাকাণ্ডকে ভিয়েনা কনভেনশন (কনস্যুলার সম্পর্ক বিষয়ক) এবং জাতিসংঘের সনদের পরিপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত শুরু করার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরামর্শ দেওয়া হয়।
যদিও সৌদি আরব এই প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে, তবে এটি আন্তর্জাতিক মহলে সৌদি সরকারের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছিল।
পরিশেষে আমরা এ আশা করতে পারি, শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হবে। এর ফলে দোষীরা চিহ্নিত হবেন এবং তাদের আইন অনুসারে সাজা দেবে কর্তৃপক্ষ। এভাবে সুষ্ঠুভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলে দেশও রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে মুক্তি পাবে।