logo
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মারক বক্তৃতায় অতিথিরা

‌‌‍‌‘মুস্তাফা জামান আব্বাসীর উচ্চতা সম্পর্কে সবার ধারণা সীমিত’

‌‌‍‌‘মুস্তাফা জামান আব্বাসীর উচ্চতা সম্পর্কে সবার ধারণা সীমিত’
সোমবার মুস্তাফা জামান আব্বাসীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক বক্তৃতায় অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

মুস্তাফা জামান আব্বাসী একাধারে কালজয়ী কণ্ঠশিল্পী ও প্রায় অর্ধশত বইয়ের প্রণেতা। তার উচ্চতা ও অবদান সম্পর্কে অনেকের ধারণা সীমিত। লোকসংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি দীর্ঘদিন টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। মুস্তাফা জামান আব্বাসীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (১১ মে) জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, সম্পূর্ণ একক উদ্যোগে লোকসংগীত নিয়ে যে মান ও পরিমাণের কাজ তিনি করেছেন, তা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তাসম্পন্ন বাংলা একাডেমি ও এশিয়াটিক সোসাইটির মতো প্রতিষ্ঠানের পক্ষেও একই মাত্রায় সম্পাদন করা সম্ভব হয়নি। বাংলার লোকসংগীতে তার অবদান অনন্য ও অতুলনীয়।

কাঠপেন্সিল সাহিত্য সংসদ এবং ইন্টেলেকচুয়াল রিসার্চ সেন্টার (আইআরসি) এর আয়োজন করে।

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের স্মারক বক্তা সাহিত্যিক, লোক গবেষক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওয়াকিল আহমদ বলেন, মুসলিম রেনেসাঁর অন্যতম প্রাণপুরুষ আব্বাসউদ্দীন একদিকে মুসলিম সমাজকে জাগিয়ে তোলেন, অপরদিকে একটি আলোকিত পরিবার গড়ে তোলেন। সে পরম্পরায় সর্বজনবিদিত লোকসংগীত শিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে লোকসংগীতকে বেছে নেন।

তিনি আরও বলেন, মুস্তাফা জামান আব্বাসী নিজে গান করেছেন এবং লোকগানকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য টেলিভিশনের মাধ্যমে দীর্ঘসময় ধরে প্রচার কাজ চালিয়েছেন।

তিনি সম্পূর্ণ একক চেষ্টায় লোকসংগীত নিয়ে যে মানের ও পরিমাণের কাজ করেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তায় যৌথভাবে বাংলা একাডেমি ও এশিয়াটিক সোসাইটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তা করতে সক্ষম হয়নি বলেও মন্তব্য করেন ড. ওয়াকিল আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগীতজ্ঞ শেখ সাদী খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সঙ্গীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, লেখক ও গবেষক অনুপম হায়াৎ, গীতিকার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কবি জাকির আবু জাফর এবং সঙ্গীতশিল্পী ও লেখক শারমিনী আব্বাসী প্রমুখ।

ইন্টেলেকচুয়াল রিচার্স সেন্টারের (আইআরসি) সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কাঠপেন্সিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি সীমান্ত আকরাম।

অনুষ্ঠানে মুস্তাফা জামান আব্বাসীকে স্মরণ করে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আবু বকর সিদ্দিক ও শিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী এবং আবৃত্তি পরিবেশন করেন শরীফ বায়জীদ মাহমুদ ও সীমা ইসলাম। অনুষ্ঠান শেষে রঞ্জন মল্লিক নির্মিত ‘ভাওয়াইয়া শিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী’ শিরোনামে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।